২০২৬ সালে অনলাইনে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন (Zero Return) দাখিলের সহজ নিয়ম ও জরুরি সতর্কতা

Online Zero Tax Return Filing Guide in Bangladesh 2026

ট্রেড লাইসেন্স তৈরি, ব্যাংকে ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্র কেনা, ক্রেডিট কার্ড নেওয়া কিংবা জমি রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজনে অনেকেই ১২ ডিজিটের কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন (e-TIN) খুলে থাকেন। তবে অনেকেই ভুল ধারণায় থাকেন যে—'আমার তো কোনো চাকরি বা করযোগ্য আয় নেই, তাহলে রিটার্ন জমা দেওয়ার দরকার কী?' জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) আইন অনুযায়ী, আপনার করযোগ্য আয় না থাকলেও যদি আপনার একটি সক্রিয় টিআইএন থাকে, তবে প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা জরিমানা বা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন। কোনো আয়কর আইনজীবী বা দালাল ছাড়াই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-ট্যাক্স পোর্টালে ঘরে বসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কীভাবে জিরো ট্যাক্স রিটার্ন (Zero Tax Return) জমা দেবেন, তার প্র্যাকটিক্যাল গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো:

১. করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা কত?

২০২৫-২৬ এবং ২০২৬ করবর্ষ অনুযায়ী বাংলাদেশের সাধারণ করদাতাদের জন্য বাৎসরিক করমুক্ত আয়ের সীমা নিম্নরূপ:

  • সাধারণ পুরুষ করদাতা: বাৎসরিক ৩,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত।
  • নারী করদাতা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ নাগরিক: বাৎসরিক ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত।
  • গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা: ৫,০০,০০০ টাকা এবং তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতা: ৪,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত।

আপনার বার্ষিক আয় যদি এই সীমার নিচে থাকে, তবে আপনার কোনো সরকারি কর বা ট্যাক্স দিতে হবে না; কিন্তু শূন্য বা জিরো রিটার্ন দাখিল করে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Acknowledgment Slip) সংগ্রহ করতে হবে।

২. অনলাইন আবেদনের জন্য যেসব বিষয় হাতের কাছে রাখবেন

  • ১২ ডিজিটের ই-টিআইএন (e-TIN) নম্বর।
  • আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর।
  • আবেদনকারীর এনআইডি দিয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফাইড নিজস্ব সচল মোবাইল সিম নম্বর (রেজিস্ট্রেশনের সময় ওটিপি কোড আসার জন্য)।
  • সারাবছরে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ও প্রাপ্ত লভ্যাংশের ব্যাংক স্টেটমেন্ট (যদি থাকে)।

৩. ধাপে ধাপে জিরো রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম

  1. এনবিআরের অফিশিয়াল ই-ট্যাক্স ওয়েবসাইট etaxnbr.gov.bd-এ প্রবেশ করে 'Registration' অপশনে গিয়ে টিআইএন ও মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
  2. লগইন করার পর ড্যাশবোর্ডে 'Return Submission' মেনুতে ক্লিক করে 'Single Page Return' বা 'Universal Self' সিলেক্ট করুন।
  3. ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে আপনার পেশা (যেমন: ছাত্র, গৃহিণী, বা ক্ষুদ্র পেশাজীবী) নির্বাচন করুন।
  4. আয়ের অংশে করমুক্ত সীমার নিচে আপনার বাৎসরিক আনুমানিক মোট আয় ও খরচের হিসাব (জীবনযাত্রার ব্যয়) ইনপুট দিন।
  5. সম্পদের অংশে আপনার যদি বড় অঙ্কের স্থাবর সম্পত্তি বা ৪০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ না থাকে, তবে সাধারণ স্থাবর/অস্থাবর বিবরণী ফর্ম পূরণ করুন।
  6. সবশেষে প্রিভিউ অপশনে ক্লিক করে তথ্যগুলো যাচাই করুন এবং 'Submit Return'-এ ক্লিক করুন।

৪. ট্যাক্স সার্টিফিকেট ও রসিদ সংগ্রহ

আবেদন সফলভাবে সাবমিট হওয়ার সাথে সাথেই আপনি একটি ডিজিটাল Acknowledgment Receipt (প্রাপ্তি স্বীকারপত্র) এবং কর পরিশোধিত প্রমাণপত্র (Tax Certificate) ডাউনলোড করতে পারবেন। বিভিন্ন ব্যাংকিং ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবায় এটিই আপনার বৈধ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।

জিরো রিটার্ন নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন: জিরো রিটার্ন দাখিল না করলে কি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হতে পারে?

উত্তর: আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র না দিলে ব্যাংকের সুদের ওপর কর কর্তনের হার ১০% থেকে বেড়ে ১৫% হবে এবং নির্দিষ্ট কিছু সেবায় অ্যাকাউন্ট পরিচালনা সাময়িক স্থগিত হতে পারে।

প্রশ্ন: শিক্ষার্থী বা বেকারদের কি রিটার্ন দিতে হবে?

উত্তর: যদি আপনার নামে কোনো টিআইএন সার্টিফিকেট না থাকে, তবে রিটার্ন দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু একবার টিআইএন খুলে ফেললে আয় থাকুক বা না থাকুক, প্রতি বছর জিরো রিটার্ন জমা দেওয়া আইনত বাধ্যতামূলক।

Post a Comment

Previous Post Next Post