এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার ২য় অধ্যায় 'গতি' থেকে প্রতি বছরই সৃজনশীল প্রশ্নের (খ) নম্বর অর্থাৎ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন আসে। মূল ধারণা স্পষ্ট না থাকলে শিক্ষার্থীরা এই ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর তুলতে পারে না। নিচে বোর্ড পরীক্ষায় কমন উপযোগী শীর্ষ কয়েকটি অনুধাবনমূলক প্রশ্নের নির্ভুল সমাধান দেওয়া হলো:
১. পরম স্থিতি বা পরম গতি সম্ভব নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মহাবিশ্বের কোনো বস্তুই প্রকৃতপক্ষে চিরস্থায়ীভাবে স্থির নয়। আমরা কোনো বস্তুকে স্থির বা গতিশীল বলি একটি নির্দিষ্ট প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে। যেমন—আমরা যে পৃথিবীর ওপর দাঁড়িয়ে আছি, সেই পৃথিবী নিজেই সূর্যের চারদিকে অবিরাম ঘুরছে এবং পুরো সৌরজগৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে ছুটে চলেছে। যেহেতু মহাবিশ্বে এমন কোনো প্রসঙ্গ বিন্দু পাওয়া অসম্ভব যা প্রকৃতপক্ষে পরম স্থির, তাই কোনো বস্তুর পরম স্থিতি বা পরম গতি পাওয়া সম্ভব নয়। সকল স্থিতি বা গতিই আপেক্ষিক।
২. সুষম দ্রুতিতে চলমান বস্তুর গতি কি সবসময় সুষম বেগ হয়?
উত্তর: না, সুষম দ্রুতিতে চলমান বস্তুর গতি সবসময় সুষম বেগ নাও হতে পারে। দ্রুতি কেবল বেগের মান নির্দেশ করে, কিন্তু বেগের মান ও দিক উভয়ই নির্দিষ্ট থাকতে হয়। কোনো গাড়ি যদি নির্দিষ্ট বেগে আঁকাবাঁকা বা বৃত্তাকার পথে চলতে থাকে, তবে প্রতি মুহূর্তেই তার গতির দিক পরিবর্তিত হয়। ফলে দ্রুতি অপরিবর্তিত থাকলেও দিকের পরিবর্তনের কারণে বেগ আর সুষম থাকে না, বরং তা অসম বেগে পরিণত হয়।
৩. অভিকর্ষজ ত্বরণ একটি সুষম ত্বরণ কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর ওপর একমাত্র ক্রিয়াশীল বল হলো পৃথিবীর অভিকর্ষ বল। বাতাসের বাধা অগ্রাহ্য করলে ভূপৃষ্ঠের নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট কোনো বস্তুর ওপর অভিকর্ষ বলের প্রভাবে প্রতি সেকেন্ডে বেগ বৃদ্ধির হার সর্বদা নির্দিষ্ট থাকে (প্রায় $9.8 \text{ m/s}^2$)। যেহেতু সমান সময় ব্যবধানে একই পরিমাণ বেগ বৃদ্ধি পায়, তাই অভিকর্ষজ ত্বরণ একটি আদর্শ সুষম ত্বরণের উদাহরণ।
উপসংহার
গতির সমীকরণ এবং ভেক্টর ও স্কেলার রাশির পার্থক্য স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলে পদার্থবিজ্ঞানের অনুধাবনমূলক প্রশ্নে শতভাগ নম্বর পাওয়া সহজ হয়। নিয়মিত এই প্রশ্নগুলো রিভিশন দিলে সৃজনশীল অংশে কোনো ভয় থাকবে না।
Post a Comment