সর্বজনীন পেনশন স্কিম (Universal Pension Scheme) ২০২৬: প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা স্কিমের নিয়ম, কিস্তি, লাভ ও অনলাইনে নিবন্ধন গাইড

Universal Pension Scheme Bangladesh Upension Registration Rules Benefit 2026

আমাদের দেশে সরকারি চাকরিজীবীরা অবসরে যাওয়ার পর আমৃত্যু সম্মানজনক মাসিক পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সুবিধা পান, যা তাদের বার্ধক্যে আর্থিক পরনির্ভরশীলতা থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা করে। কিন্তু বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার, কৃষক কিংবা অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন—তাদের কর্মক্ষম বয়স শেষ হয়ে গেলে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক নিরাপত্তা বা পেনশনের ব্যবস্থা ছিল না। বার্ধক্যে সন্তানের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল হওয়া কিংবা চিকিৎসার খরচে নিঃস্ব হয়ে পড়ার ভয় তাড়া করে ফিরতো দেশের কোটি কোটি সাধারণ নাগরিককে।

এই ঐতিহাসিক বৈষম্য দূর করতে বাংলাদেশ সরকার 'সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৩' এর অধীনে চালু করেছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে যুগান্তকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি—'সর্বজনীন পেনশন স্কিম' (Universal Pension Scheme - UPS)। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ (National Pension Authority) কর্তৃক পরিচালিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৮ বছর থেকে শুরু করে ৫০ বছর (এমনকি ৫০ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো বিশেষ নাগরিক) প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ কিস্তি জমা দিয়ে ৬০ বছর বয়স থেকে শুরু করে আজীবন সরকার কর্তৃক শতভাগ গ্যারান্টিযুক্ত মাসিক পেনশন সুবিধা পেতে পারেন। একজন সিনিয়র ব্যক্তিগত অর্থায়ন ও ক্যারিয়ার পরামর্শক হিসেবে আজ আমি ২০২৬ সালের হালনাগাদ নিয়মানুযায়ী প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা স্কিমের বিস্তারিত তুলনা, কোন স্কিমে কত কিস্তিতে মাসে কত টাকা পেনশন পাবেন, সরকারি অনুদান, আয়কর সুবিধা এবং ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে upension.gov.bd পোর্টালে নিবন্ধনের পূর্ণাঙ্গ এ-টু-জেড গাইড তুলে ধরছি:

১. সর্বজনীন পেনশন স্কিম কী এবং এর মৌলিক ৪টি প্যাকেজ

সর্বজনীন পেনশন স্কিম কোনো সাধারণ ব্যাংকিং ডিপিএস (DPS) নয়; এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তাযুক্ত (Sovereign Guarantee) একটি দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক বীমা তহবিল। জমাকৃত অর্থ সরকারি ট্রেজারি বন্ড, লাভজনক অবকাঠামো ও নিরাপদ সরকারি খাতে বিনিয়োগ করা হয় এবং এর অর্জিত মুনাফা পেনশনধারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। সমাজের বিভিন্ন পেশা ও আয়ের মানুষের সুবিধার্থে ৪টি ভিন্ন স্কিম চালু রয়েছে:

স্কিমের নাম কাদের জন্য প্রযোজ্য (Eligibility) মাসিক কিস্তির অপশনসমূহ (টাকা)
১. প্রবাস স্কিম (PRABASH) বিদেশে কর্মরত বা বসবাসরত যেকোনো অনিবাসী বাংলাদেশী (NRB)। (বৈধ রেমিট্যান্স চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রায় কিস্তি জমা দিতে হয়)। ৳ ৭,০০০ / ৳ ১০,০০০ / ৳ ১৫,০০০ / ৳ ২৫,০০০
২. প্রগতি স্কিম (PROGOTI) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অথবা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক যৌথ অংশগ্রহণ। ৳ ৩,০০০ / ৳ ৫,০০০ / ৳ ৭,০০০ / ৳ ১০,০০০
৩. সুরক্ষা স্কিম (SURAKKHA) অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত সকল স্বকর্মসংস্থানকারী নাগরিক (যেমন: কৃষক, দিনমজুর, রিকশাচালক, ফ্রিল্যান্সার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আইনজীবী, ডাক্তার ইত্যাদি)। ৳ ১,৫০০ / ৳ ৩,০০০ / ৳ ৫,০০০ / ৳ ৭,০০০
৪. সমতা স্কিম (SAMATA) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী স্বল্প আয়ের নাগরিক (যাদের বার্ষিক আয় অনধিক ৬০,০০০ টাকা)। মোট ৳ ১,০০০
(নাগরিক দেবেন ৳ ৫০০ + সরকার দেবে ৳ ৫০০ অনুদান)

২. কিস্তির হার বনাম ভবিষ্যৎ মাসিক পেনশনের হিসাব (রিটার্ন চার্ট)

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো চক্রবৃদ্ধি মুনাফার কারণে কিস্তির তুলনায় প্রাপ্ত পেনশনের অনুপাত অবিশ্বাস্য রকম বেশি। আপনি যত অল্প বয়সে (যেমন ১৮ থেকে ২৫ বছরে) শুরু করবেন এবং যত দীর্ঘমেয়াদে কিস্তি চালাবেন, ৬০ বছর বয়সের পর আপনার মাসিক পেনশন তত বিশাল হবে। নিচে সুরক্ষা ও প্রগতি স্কিমের ১০, ২০, ৩০ ও ৪২ বছর মেয়াদে আনুমানিক মাসিক পেনশনের প্রাতিষ্ঠানিক চার্ট দেওয়া হলো:

মাসিক জমার পরিমাণ (কিস্তি) ১০ বছর জমা দিলে ৬০ বছর পর প্রতি মাসে পাবেন ২০ বছর জমা দিলে ৬০ বছর পর প্রতি মাসে পাবেন ৩০ বছর জমা দিলে ৬০ বছর পর প্রতি মাসে পাবেন ৪২ বছর (১৮ থেকে ৬০ বছর) জমা দিলে মাসিক পেনশন
৳ ১,০০০ (সমতা স্কিম) ৳ ১,৫৩০ / মাস ৳ ৪,৮১০ / মাস ৳ ১৩,৫৭০ / মাস ৳ ৩৪,৪৬৫ / মাস
৳ ২,০০০ / মাস ৳ ৩,০৬০ / মাস ৳ ৯,৬২০ / মাস ৳ ২৭,১৪০ / মাস ৳ ৬৮,৯৩১ / মাস
৳ ৫,০০০ / মাস ৳ ৭,৬৫০ / মাস ৳ ২৪,০৫০ / মাস ৳ ৬৭,৮৫০ / মাস ৳ ১,৭২,৩২৭ / মাস
৳ ১০,০০০ / মাস ৳ ১৫,৩০০ / মাস ৳ ৪৮,১০০ / মাস ৳ ১,৩৫,৭০০ / মাস ৳ ৩,৪৪,৬৫৫ / মাস!

* লক্ষ্য করুন: একজন ১৮ বছর বয়সী তরুণ যদি প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে কিস্তি দেন, তবে ৬০ বছর বয়সের পর তিনি প্রতি মাসে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকারও বেশি আজীবন পেনশন পাবেন! আর সমতা স্কিমে গরিব মানুষের ৫০০ টাকার বিপরীতে সরকার ৫০০ টাকা দিয়ে মাসে ৩৪ হাজার টাকার বেশি নিশ্চিত পেনশন দিচ্ছে।

৩. পেনশনধারীর মৃত্যুতে নমিনির অধিকার ও উত্তরাধিকার নিয়মাবলী

পেনশন স্কিম নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে—"আমি যদি ৬০ বছর হওয়ার আগেই মারা যাই বা ৬০ বছরের পর অল্প কয়েকদিন পেনশন পেয়ে মারা যাই, তবে জমানো টাকার কী হবে?" আইন অনুযায়ী এর বিধান অত্যন্ত চমৎকার ও সুরক্ষিত:

  • ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে চাঁদাদাতার মৃত্যু হলে: চাঁদাদাতার জমাকৃত সম্পূর্ণ অর্থ মুনাফাসহ তার মনোনীত নমিনিকে এককালীন বা নিয়মানুযায়ী বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
  • পেনশন পাওয়া অবস্থায় চাঁদাদাতার মৃত্যু হলে: পেনশন শুরু হওয়ার পর যদি চাঁদাদাতা মারা যান, তবে তার নমিনি চাঁদাদাতার বয়স ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত (অর্থাৎ সর্বনিম্ন ১৫ বছর) প্রতি মাসে একই হারে নিয়মিত মাসিক পেনশন পেতে থাকবেন।
  • আজীবন পেনশনের নিশ্চয়তা: চাঁদাদাতা নিজে যদি ১০০ বছর বা তার বেশিও বাঁচেন, তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন প্রতি মাসেই এই পেনশন পেতে থাকবেন; কোনো সময়সীমা নেই।
  • ঋণ গ্রহণের চমৎকার সুবিধা: জরুরি চিকিৎসা বা ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রয়োজনে চাঁদাদাতা তার পেনশন তহবিলে জমাকৃত স্থিতির সর্বোচ্চ ৫০% অর্থ সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, যা পরবর্তীতে কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য।

৪. আয়কর রেয়াত ও করমুক্ত পেনশনের বিশাল সুবিধা

বাংলাদেশের নতুন আয়কর আইন ২০২৩ ও ২০২৬ সালের এনবিআরের সর্বশেষ বিধান অনুযায়ী সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণে দ্বৈত কর সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে:

  1. বিনিয়োগ কর রেয়াত (Tax Rebate): পেনশন স্কিমে জমা দেওয়া বাৎসরিক সম্পূর্ণ কিস্তির অর্থ আয়কর রেয়াতের জন্য বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে করদাতারা সরাসরি প্রদেয় আয়কর থেকে ১৫% পর্যন্ত কর রেয়াত পাবেন।
  2. পেনশনের অর্থ সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত: ৬০ বছর পর প্রতি মাসে যে পেনশন পাওয়া যাবে, তা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত (100% Tax Free)। অর্থাৎ পেনশনের ওপর সরকার কোনো উৎসে কর কাটবে না।

৫. ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে নিবন্ধনের ধাপে ধাপে নিয়ম ২০২৬

কোনো সরকারি দপ্তর বা ব্যাংকে লাইনে না দাঁড়িয়ে আপনি আপনার স্মার্টফোন থেকেই ৫ মিনিটে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন:

upension.gov.bd পোর্টালে ধাপে ধাপে আবেদনের গাইড:

  1. ধাপ ১ (ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও প্রত্যয়ন গ্রহণ): যেকোনো ব্রাউজার দিয়ে upension.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন এবং 'পেনশন স্কিমে নিবন্ধন' বাটনে ক্লিক করুন। শর্তাবলীর চেকবক্সে টিক দিয়ে 'সম্মতি প্রদান' করুন।
  2. ধাপ ২ (প্যাকেজ ও এনআইডি যাচাই): আপনার জন্য প্রযোজ্য প্যাকেজটি নির্বাচন করুন (যেমন: প্রবাস, প্রগতি বা সুরক্ষা)। এরপর আপনার ১০ বা ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ এবং নিজের মোবাইল নম্বর ও ইমেইল টাইপ করে ক্যাপচা পূরণ করুন। আপনার মোবাইলে একটি ৬ ডিজিটের ওটিপি (OTP) কোড আসবে, তা বসিয়ে এগিয়ে যান।
  3. ধাপ ৩ (ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক হিসাব): নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজ থেকে আপনার নাম, ছবি ও পিতা-মাতার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে। এরপর আপনার পেশা ও বার্ষিক আয়ের তথ্য দিন। এবার আপনার সক্রিয় ব্যাংক হিসাবের নাম, ব্যাংক ও ব্রাঞ্চের নাম, রাউটিং নম্বর ও অ্যাকাউন্ট নম্বর নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
  4. ধাপ ৪ (নমিনি সংযোজন): নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ, আপনার সাথে সম্পর্ক এবং নমিনির শতকরা কত ভাগ অধিকার পাবে (১০০%) তা নির্ধারণ করুন। আপনি চাইলে একাধিক নমিনি যুক্ত করতে পারেন।
  5. ধাপ ৫ (কিস্তির হার ও সময়কাল নির্বাচন): আপনি প্রতি মাসে কত টাকা কিস্তি দিতে চান (যেমন: ১,৫০০ / ৩,০০০ / ৫,০০০) এবং কিস্তি কি মাসিক, ত্রৈমাসিক নাকি বাৎসরিক ভিত্তিতে দেবেন তা সিলেক্ট করুন।
  6. ধাপ ৬ (অনলাইন পেমেন্ট): সকল তথ্য রিভিউ করে ফাইনাল সাবমিট করুন। সাথে সাথে আপনার একটি স্থায়ী ইউজার আইডি (PID - Pensioner ID) তৈরি হবে। এরপর বিকাশ, নগদ, রকেট, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড কিংবা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রথম কিস্তি পরিশোধ করুন। পেমেন্ট সফল হলে আপনার ডিজিটাল পেনশন সনদ ও পেমেন্ট স্লিপ ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।

৬. কিস্তি পরিশোধের নিয়ম ও ব্যাংকিং অটো-ডেবিট সুবিধা

  • প্রতি মাসের কিস্তি পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হয়।
  • বিকাশ বা নগদ অ্যাপের 'Pay Bill' সেকশনে গিয়ে 'Universal Pension' সিলেক্ট করে আপনার পিআইডি (PID) নম্বর দিলেই তাৎক্ষণিক ঘরে বসে কিস্তি দেওয়া যায়।
  • এছাড়া সোনালী ব্যাংক বা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে স্ট্যান্ডিং ইন্সট্রাকশন (Standing Instruction / Auto-Debit) দিয়ে রাখলে প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কিস্তির টাকা কেটে জমা হয়ে যাবে।
  • দেরিতে কিস্তি দিলে কী হবে? নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিস্তি দিতে না পারলে প্রতি দিনের জন্য নামমাত্র ১% বিলম্ব ফি দিয়ে কিস্তি নিয়মিত করা যায়। কোনো কিস্তি মিস হলে আপনার পূর্ববর্তী হিসাব বা টাকা বাতিল হয়ে যায় না।

৭. নতুন পেনশন অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৭টি অপরিহার্য পরামর্শ

  1. যত দ্রুত সম্ভব শুরু করুন: ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সে শুরু করলে কিস্তির বোঝা খুব হালকা থাকে, অথচ বার্ধক্যে প্রাপ্য পেনশনের পরিমাণ বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। সময়ই এখানে সবচেয়ে বড় মূলধন।
  2. সঠিক স্কিম নির্বাচন করুন: আপনি যদি কোনো প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন তবে 'প্রগতি', নিজে কিছু করলে বা ফ্রিল্যান্সিং করলে 'সুরক্ষা', আর অসচ্ছল পরিবার হলে অবশ্যই সরকারি অনুদানযুক্ত 'সমতা' স্কিম বেছে নিন।
  3. পিআইডি (PID) নম্বরটি যত্ন করে রাখুন: নিবন্ধনের পর যে ৯ বা ১০ ডিজিটের ইউনিক পেনশন আইডি পাবেন, তা ডায়েরিতে লিখে রাখুন। ভবিষ্যৎ সকল কিস্তি ও ট্র্যাকিংয়ে এটিই আপনার পরিচয়।
  4. নমিনির তথ্য হালনাগাদ রাখুন: নমিনির সঠিক এনআইডি এবং মোবাইল নম্বর প্রদান করুন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে অ্যাপের মাধ্যমে নমিনি পরিবর্তন করা যায়।
  5. অটো-ডেবিট পদ্ধতি বেছে নিন: বিকাশ বা ব্যাংকে অটো-ডেবিট চালু রাখলে ব্যস্ততার কারণে কিস্তি মিস হওয়ার বা বিলম্ব ফি লাগার কোনো ভয় থাকে না।
  6. বার্ষিক বিবরণী পর্যবেক্ষণ: প্রতি বছর শেষে upension পোর্টালে লগইন করে আপনার তহবিলে জমা হওয়া মোট কিস্তি এবং সরকারি বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফার স্টেটমেন্ট ডাউনলোড করে রাখুন।
  7. ভুয়া দালাল থেকে সাবধান: পেনশন রেজিস্ট্রেশনের জন্য কোনো দালালকে টাকা দেবেন না। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সরকারি ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে এবং অত্যন্ত স্বচ্ছ।

৮. সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. সরকারি চাকরিজীবীরা কি এই স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন?

না, যেসকল সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সরকারি রাজস্ব খাত থেকে প্রচলিত পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সুবিধা পান, তাদের জন্য এই সর্বজনীন স্কিম প্রযোজ্য নয়। তবে সরকারি স্কিমের আওতা বহির্ভূত সাধারণ নাগরিক, বেসরকারি চাকরিজীবী ও প্রবাসীদের জন্যই মূলত এই ব্যবস্থা।

২. ৫০ বছর বয়সের বেশি কেউ কি পেনশন স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন?

হ্যাঁ, ৫০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকরাও বিশেষ বিবেচনায় পেনশন স্কিমে যুক্ত হতে পারবেন। তবে পেনশন সুবিধা পেতে হলে তাকে টানা কমপক্ষে ১০ বছর কিস্তি প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ ৫৫ বছর বয়সে যোগ দিলে তিনি ৬৫ বছর বয়স থেকে আমৃত্যু মাসিক পেনশন পাবেন।

৩. জমাকৃত টাকা কি পেনশনের আগে এককালীন তুলে নেওয়া সম্ভব?

না, সর্বজনীন পেনশন মূলত বার্ধক্যে নিয়মিত ভাতার নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য তৈরি, তাই ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে সম্পূর্ণ টাকা এককালীন উত্তোলন করা যায় না। তবে জরুরি প্রয়োজনে জমাকৃত স্থিতির সর্বোচ্চ ৫০% টাকা ঋণ হিসেবে তুলে নেওয়া যায় এবং পরবর্তীতে কিস্তিতে তা পরিশোধ করা যায়।

৪. প্রবাসী স্কিমে কিস্তি দেওয়া অবস্থায় কেউ দেশে স্থায়ীভাবে ফিরে আসলে কী হবে?

কোনো প্রবাসী যদি প্রবাস স্কিমে কিস্তি চালানো অবস্থায় প্রবাস জীবন শেষ করে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসেন, তবে তার স্কিম বন্ধ হবে না। তিনি দেশে এসে তার হিসাবটি প্রবাস স্কিম থেকে দেশীয় মুদ্রাভিত্তিক 'সুরক্ষা' বা 'প্রগতি' স্কিমে রূপান্তর করে স্বাভাবিকভাবে কিস্তি চালিয়ে যেতে পারবেন।

৫. পেনশন শুরু হওয়ার পর টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে?

চাঁদাদাতার ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই কোনো প্রকার জটিল আবেদন ছাড়াই নিবন্ধিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (BEFTN/EFT) এর মাধ্যমে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেনশনের টাকা জমা হয়ে যাবে। গ্রাহক চাইলে যেকোনো এটিএম বুথ বা ব্যাংক শাখা থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post