এইচএসসি হিসাববিজ্ঞান ২য় পত্র: ৪র্থ অধ্যায় 'যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন' শেয়ার ইস্যু, সমহার, অধিহার ও অবহারের জাবেদা এবং আর্থিক অবস্থার বিবরণী সমাধান ২০২৬

HSC Accounting 2nd Paper Chapter 4 Joint Stock Company Capital Share Issue Board Solution 2026

উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য হিসাববিজ্ঞান ২য় পত্রে এ প্লাস (A+) সুনিশ্চিত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নিশ্চিত ফুল-মার্কস তোলার অধ্যায় হলো ৪র্থ অধ্যায় 'যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন' (Capital of Joint Stock Company), যা শিক্ষার্থীদের কাছে 'শেয়ার ইস্যু' (Share Issue) নামে সর্বাধিক পরিচিত। ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, দিনাজপুরসহ দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডের বিগত ৫ থেকে ৭ বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বোর্ড পরীক্ষার লিখিত 'ক' ও 'খ' বিভাগ মিলিয়ে এই একক অধ্যায় থেকেই প্রতি বছর ১০০% নিশ্চিত অন্তত ১টি এবং অধিকাংশ বছর ২টি পূর্ণাঙ্গ সৃজনশীল প্রশ্ন (১০ থেকে ২০ নম্বর) আসে।

শেয়ার ইস্যু অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—এর অংকগুলো অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। মাত্র ৪ থেকে ৫টি মৌলিক জাবেদা দাখিলা (Journal Entries) এবং কোম্পানির উদ্বর্তপত্র বা আর্থিক অবস্থার বিবরণী (Statement of Financial Position) তৈরির ছকটি সঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারলে পরীক্ষার খাতায় খুব কম সময়ে পুরো ১০ এ ১০ নম্বর অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীই শেয়ার অধিহার (Share Premium) ও শেয়ার অবহার (Share Discount)-এর হিসাবভুক্তকরণ, অতিরিক্ত আবেদনের টাকা ফেরত এবং ব্যাংক চার্জ বা অবলেখকের কমিশন সমন্বয় করতে গিয়ে ভুল করে ফেলে। একজন সিনিয়র হিসাববিজ্ঞান মেন্টর হিসেবে আজ আমি ২০২৬ সালের হালনাগাদ বোর্ড সিলেবাস অনুযায়ী শেয়ারের শ্রেণিবিভাগ, জাবেদা দাখিলার নিয়মাবলী, আর্থিক অবস্থার বিবরণী প্রস্তুতকরণ এবং একটি ১০০% বোর্ড স্ট্যান্ডার্ড পূর্ণাঙ্গ সৃজনশীল প্রশ্নের পুঙ্খানুপুঙ্খ সমাধান তুলে ধরছি:

১. যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন ও শেয়ারের শ্রেণিবিভাগ

১৯৯৪ সালের বাংলাদেশ কোম্পানি আইন অনুযায়ী, যৌথ মূলধনী কোম্পানির মোট মূলধনকে কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমান অংশে বিভক্ত করা হয়। এই প্রতিটি সমান একককে এক একটি 'শেয়ার' (Share) বলা হয়। হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানির মূলধনকে ৫টি প্রধান স্তরে বিন্যস্ত করা হয়:

মূলধনের স্তর সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য আর্থিক বিবরণীতে উপস্থাপন
১. অনুমোদিত মূলধন (Authorized Capital) কোম্পানি তার স্মারকলিপিতে (Memorandum of Association) সর্বোচ্চ যে পরিমাণ মূলধন সংগ্রহের সরকারি অনুমোদন বা নিবন্ধন নেয়। আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে দায় পাশে লিখে দুটি সমান্তরাল দাগ টেনে ক্লোজ (বন্ধ) করে দিতে হয়।
২. ইস্যুকৃত মূলধন (Issued Capital) অনুমোদিত মূলধনের যে অংশ জনসাধারণ বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রয়ের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আহ্বান করা হয়। দায় পাশে প্রদর্শন করে হিসাব বন্ধ করতে হয় (যদি বিলিকৃত ও ইস্যুকৃত সমান না হয়)।
৩. বিলিকৃত মূলধন (Subscribed Capital) ইস্যুকৃত শেয়ারের মধ্যে যে পরিমাণ শেয়ার ক্রয়ের জন্য জনসাধারণের আবেদন গৃহীত হয় এবং তাদের নামে বণ্টন করা হয়। ইস্যুকৃত ও বিলিকৃত শেয়ার সংখ্যা সাধারণত একসাথে দেখানো যায়।
৪. তলবকৃত ও আদায়কৃত মূলধন (Paid-up Capital) কোম্পানি বিলিকৃত শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে নগদ যে অর্থ প্রকৃতপক্ষে গ্রহণ করেছে। এটিই কোম্পানির মূল কার্যকরী ইকুইটি, যা ক্লোজ না করে চূড়ান্ত যোগফলে যোগ হয়।

২. শেয়ার ইস্যুর ৩টি মৌলিক পদ্ধতি: সমহার, অধিহার ও অবহার

কোম্পানি বাজারে তার শেয়ারের লিখিত বা অভিহিত মূল্যের (Face Value) ওপর ভিত্তি করে তিনভাবে শেয়ার বিলি করতে পারে:

১) সমহারে শেয়ার ইস্যু (At Par):

শেয়ারের গায়ে যে মূল্য লেখা থাকে (যেমন প্রতি শেয়ার ১০ টাকা), ঠিক সেই লিখিত মূল্যেই যদি জনসাধারণের নিকট শেয়ার বিক্রি করা হয়, তবে তাকে সমহারে ইস্যু বলে। এতে কোনো লাভ বা লোকসান থাকে না।

২) অধিহারে শেয়ার ইস্যু (At Premium):

কোম্পানির সুনাম বা উচ্চ চাহিদার কারণে যদি শেয়ারের অভিহিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে শেয়ার বিক্রি করা হয় (যেমন ১০ টাকার শেয়ার ১২ টাকায় বিলি, অতিরিক্ত ২ টাকা অধিহার), তাকে অধিহারে ইস্যু বলে। শেয়ার অধিহার হলো কোম্পানির জন্য একটি মূলধনজাতীয় লাভ (Capital Profit)। আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে এটি 'সঞ্চিতি ও উদ্বৃত্ত' (Reserves and Surplus) শিরোনামে দায়ের অধীনে বসে।

৩) অবহারে শেয়ার ইস্যু (At Discount):

কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ১৫৩ ধারা অনুযায়ী কিছু শর্তসাপেক্ষে অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে শেয়ার বিলি করা হলে তাকে অবহারে ইস্যু বলে (যেমন ১০ টাকার শেয়ার ৯ টাকায় বিলি, কম নেওয়া ১ টাকা অবহার)। আইন অনুযায়ী শেয়ার অবহারের হার সর্বোচ্চ ১০% হতে পারে। শেয়ার অবহার হলো কোম্পানির জন্য একটি অবাস্তব সম্পত্তি বা মূলধনজাতীয় ক্ষতি (Fictitious Asset)। এটি আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে সম্পত্তির পাশে 'অসমন্বিত ব্যয়' শিরোনামে প্রদর্শিত হয়।

৩. শেয়ার ইস্যুর ধারাবাহিক জাবেদা দাখিলা (Journal Entries)

বোর্ড পরীক্ষায় শেয়ার ইস্যুর যেকোনো অংকে মূলত নিচের ৪টি নির্দিষ্ট জাবেদা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আসে। এই ছকটি মুখস্থ রাখার গোল্ডেন রুল:

ক্রম ঘটনা / লেনদেন ডেবিট পক্ষ ক্রেডিট পক্ষ টাকার পরিমাণ নির্ধারণের নিয়ম
১ শেয়ারের আবেদনপত্র ও আবেদনের টাকা প্রাপ্তি ব্যাংক হিসাব ডেবিট শেয়ার আবেদন হিসাব ক্রেডিট (মোট প্রাপ্ত আবেদনের শেয়ার সংখ্যা $\times$ ইস্যুমূল্য বা আদায়কৃত প্রতি শেয়ারের টাকা)
২ অনুমোদিত শেয়ার মূলধন হিসাবে স্থানান্তর (সমহারে) শেয়ার আবেদন হিসাব ডেবিট শেয়ার মূলধন হিসাব ক্রেডিট (প্রকৃত বিলিকৃত শেয়ার সংখ্যা $\times$ শেয়ারের মূল অভিহিত দর)
২ (ক) অনুমোদিত শেয়ার মূলধনে স্থানান্তর (অধিহারে) শেয়ার আবেদন হিসাব ডেবিট শেয়ার মূলধন হিসাব ক্রেডিট
শেয়ার অধিহার হিসাব ক্রেডিট
মূলধনে যাবে: (বিলিকৃত শেয়ার $\times$ অভিহিত দর)
অধিহারে যাবে: (বিলিকৃত শেয়ার $\times$ অধিহারের দর)
২ (খ) অনুমোদিত শেয়ার মূলধনে স্থানান্তর (অবহারে) শেয়ার আবেদন হিসাব ডেবিট
শেয়ার অবহার হিসাব ডেবিট
শেয়ার মূলধন হিসাব ক্রেডিট আবেদনে যাবে: (বিলিকৃত শেয়ার $\times$ অবহার বাদে দর)
অবহারে যাবে: (বিলিকৃত শেয়ার $\times$ অবহারের দর)
মূলধনে যাবে: (বিলিকৃত শেয়ার $\times$ পূর্ণ অভিহিত দর)
৩ অতিরিক্ত আবেদনের টাকা সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে ফেরত প্রদান শেয়ার আবেদন হিসাব ডেবিট ব্যাংক হিসাব ক্রেডিট (অতিরিক্ত বা প্রত্যাখ্যাত শেয়ার সংখ্যা $\times$ যে দরে টাকা পাওয়া গিয়েছিল)
৪ অবলেখকের কমিশন, দালালি বা ব্যাংক চার্জ পরিশোধ অবলেখকের কমিশন / ব্যাংক চার্জ হিসাব ডেবিট ব্যাংক হিসাব ক্রেডিট প্রদত্ত কমিশনের প্রকৃত অর্থ। (এটি আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে অসমন্বিত ব্যয়ে বসে)।

৪. আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে মূলধন ও দায়ের শ্রেণিবিভাগ ছক

শেয়ার ইস্যু সংক্রান্ত আর্থিক অবস্থার বিবরণী তৈরি করার সময় আন্তর্জাতিক হিসাবমান (IAS-1) এবং কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিচের ধারাবাহিক ক্রম রক্ষা করা বাধ্যতামূলক:

কোম্পানির নাম: ......... লিমিটেড

আর্থিক অবস্থার বিবরণী (উদ্বর্তপত্র) | নির্দিষ্ট তারিখের জন্য

  • ১. সম্পত্তি ও পরিসম্পদ (Assets):
    • ক) স্থায়ী সম্পত্তি (যদি কোনো স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয় করা হয়)
    • খ) চলতি সম্পত্তি (Current Assets):
      • ব্যাংক জমা / ব্যাংক হিসাবের উদ্বৃত্ত (সর্বদা বসে)
    • গ) অসমন্বিত ব্যয় ও কাল্পনিক সম্পত্তি (Fictitious Assets):
      • শেয়ার অবহার হিসাব
      • অবলেখকের কমিশন / প্রাথমিক খরচাবলী
    • মোট সম্পত্তি = (খ + গ)
  • ২. শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি ও দায় (Equity & Liabilities):
    • ক) অনুমোদিত মূলধন: ..... শেয়ার প্রতি শেয়ার ..... টাকা = মোট টাকা (ক্লোজ)
    • খ) ইস্যুকৃত ও বিলিকৃত মূলধন: ..... শেয়ার প্রতি শেয়ার ..... টাকা = মোট টাকা (ক্লোজ)
    • গ) তলবকৃত ও আদায়কৃত মূলধন: ..... শেয়ার প্রতি শেয়ার ..... টাকা = (আদায়কৃত টাকা)
    • ঘ) সঞ্চিতি ও উদ্বৃত্ত (Reserves & Surplus):
      • শেয়ার অধিহার হিসাব (যদি প্রশ্নে থাকে)
    • মোট ইকুইটি ও দায় = (গ + ঘ)

সবসময় মনে রাখবেন: মোট সম্পত্তি এবং মোট ইকুইটি ও দায়ের যোগফল হুবহু সমান হতে হবে।

৫. পূর্ণাঙ্গ বোর্ড স্ট্যান্ডার্ড সৃজনশীল প্রশ্ন ও নির্ভুল সমাধান ২০২৬

উদ্দীপক:

মেঘনা টেক্সটাইল লিমিটেড প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের ৫,০০,০০০টি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত ৫০,০০,০০০ টাকার অনুমোদিত মূলধন নিয়ে নিবন্ধিত হলো।

কোম্পানি অনুমোদিত মূলধনের মধ্য হতে ৩,০০,০০০টি সাধারণ শেয়ার ১০% অধিহারে (প্রতি শেয়ার ১ টাকা অধিহারসহ ১১ টাকায়) জনসাধারণের নিকট বিক্রির উদ্দেশ্যে বিবরণপত্র ইস্যু করল।

কোম্পানি সর্বমোট ৩,৬০,০০০টি শেয়ারের আবেদনপত্র গ্রহণ করল। কোম্পানি ইস্যুকৃত ৩,০০,০০০টি শেয়ার যথারীতি আবেদনকারীদের মধ্যে বণ্টন করল এবং অতিরিক্ত ৬০,০০০টি শেয়ারের আবেদনের টাকা সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ব্যাংকের মাধ্যমে ফেরত প্রদান করল। কোম্পানি শেয়ার বিলির দায়িত্বে থাকা অবলেখককে প্রতি শেয়ারে ০.২০ টাকা হারে কমিশন প্রদান করল।

প্রশ্নসমূহ:
(ক) মোট শেয়ার অধিহারের পরিমাণ এবং অবলেখকের কমিশনের পরিমাণ নির্ণয় কর। [২]
(খ) মেঘনা টেক্সটাইল লিমিটেডের হিসাব বইতে প্রয়োজনীয় জাবেদা দাখিলা প্রদান কর। [৪]
(গ) কোম্পানির হিসাব বইতে ব্যাংক হিসাবের খতিয়ান এবং আর্থিক অবস্থার বিবরণী প্রস্তুত কর। [৪]

(ক) উত্তর: মোট শেয়ার অধিহার ও অবলেখকের কমিশন নির্ণয়

১. মোট শেয়ার অধিহারের পরিমাণ নির্ণয়:
আমরা জানি, শেয়ার অধিহার সর্বদা প্রকৃত বিলিকৃত বা বণ্টিত শেয়ারের ওপর ধার্য হয় (অতিরিক্ত শেয়ারের ওপর নয়)।
প্রতি শেয়ারের অভিহিত মূল্য = ১০ টাকা
অধিহারের হার = ১০%
প্রতি শেয়ারে অধিহার = $১০ \times ১০\% = ১$ টাকা
প্রকৃত বিলিকৃত শেয়ার সংখ্যা = ৩,০০,০০০টি
$\therefore$ মোট শেয়ার অধিহার = $৩,০০,০০০ \times ১ = ৩,০০,০০০$ টাকা।

২. অবলেখকের কমিশনের পরিমাণ নির্ণয়:
অবলেখকের কমিশন সর্বদা বিলিকৃত শেয়ারের ওপর প্রযোজ্য।
প্রতি শেয়ারের কমিশন = ০.২০ টাকা
বিলিকৃত শেয়ার সংখ্যা = ৩,০০,০০০টি
$\therefore$ মোট অবলেখকের কমিশন = $৩,০০,০০০ \times ০.২০ = ৬০,০০০$ টাকা।

উত্তর: মোট শেয়ার অধিহার ৩,০০,০০০ টাকা এবং অবলেখকের কমিশন ৬০,০০০ টাকা।

(খ) উত্তর: মেঘনা টেক্সটাইল লিমিটেডের সাধারণ জাবেদা দাখিলা

তারিখ হিসাবের শিরোনাম ও ব্যাখ্যা খ.পৃ. ডেবিট (টাকা) ক্রেডিট (টাকা)
১ ব্যাংক হিসাব .......................................... ডেবিট
    শেয়ার আবেদন হিসাব ......................... ক্রেডিট
(যেহেতু প্রতিটি ১০ টাকা শেয়ার ১ টাকা অধিহারসহ ১১ টাকা দরে ৩,৬০,০০০টি শেয়ারের আবেদন পাওয়া গেল: ৩,৬০,০০০ $\times$ ১১)
৩৯,৬০,০০০
৩৯,৬০,০০০
২ শেয়ার আবেদন হিসাব ................................ ডেবিট
    শেয়ার মূলধন হিসাব .......................... ক্রেডিট
    শেয়ার অধিহার হিসাব ......................... ক্রেডিট
(যেহেতু ৩,০০,০০০টি শেয়ারের টাকা মূলধনে এবং অধিহারে স্থানান্তর করা হলো: মূলধন ৩,০০,০০০ $ imes$ ১০ = ৩০,০০,০০০ টাকা এবং অধিহার ৩,০০,০০০ $ imes$ ১ = ৩,০০,০০০ টাকা)
৩৩,০০,০০০
৩০,০০,০০০
৩,০০,০০০
৩ শেয়ার আবেদন হিসাব ................................ ডেবিট
    ব্যাংক হিসাব .................................... ক্রেডিট
(যেহেতু অতিরিক্ত ৬০,০০০টি শেয়ারের আবেদনপত্রের টাকা প্রতি শেয়ার ১১ টাকা দরে আবেদনকারীদের ফেরত প্রদান করা হলো: ৬০,০০০ $ imes$ ১১)
৬,৬০,০০০
৬,৬০,০০০
৪ অবলেখকের কমিশন হিসাব ............................ ডেবিট
    ব্যাংক হিসাব .................................... ক্রেডিট
(যেহেতু অবলেখককে প্রতি শেয়ারে ০.২০ টাকা হারে কমিশন চেকে প্রদান করা হলো: ৩,০০,০০০ $ imes$ ০.২০)
৬০,০০০
৬০,০০০
মোট যোগফল = ৭৯,৮০,০০০ ৭৯,৮০,০০০

(গ) উত্তর: ব্যাংক হিসাব (খতিয়ান) ও আর্থিক অবস্থার বিবরণী

১. ব্যাংক হিসাব (চলতি জের ছকে):

তারিখ বিবরণ জা.পৃ. ডেবিট (টাকা) ক্রেডিট (টাকা) উদ্বৃত্ত / জের (ডেবিট)
২০২৬ শেয়ার আবেদন হিসাব ৩৯,৬০,০০০ — ৩৯,৬০,০০০
শেয়ার আবেদন হিসাব (ফেরত) — ৬,৬০,০০০ ৩৩,০০,০০০
অবলেখকের কমিশন হিসাব — ৬০,০০০ ৩২,৪০,০০০

$\therefore$ ব্যাংক জমার সমাপনী উদ্বৃত্ত = ৩২,৪০,০০০ টাকা।

২. মেঘনা টেক্সটাইল লিমিটেডের আর্থিক অবস্থার বিবরণী:

বিবরণ টাকা টাকা
১. পরিসম্পদসমূহ (Assets):
চলতি সম্পদ:
    ব্যাংক জমার উদ্বৃত্ত
৩২,৪০,০০০
অসমন্বিত ব্যয় / কাল্পনিক সম্পত্তি:
    অবলেখকের কমিশন
৬০,০০০
মোট পরিসম্পদ (Total Assets) ৩৩,০০,০০০
=============
২. শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি ও দায়সমূহ (Equity & Liabilities):
অনুমোদিত মূলধন:
    প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের ৫,০০,০০০টি সাধারণ শেয়ার
৫০,০০,০০০
==========
ইস্যুকৃত ও বিলিকৃত মূলধন:
    প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের ৩,০০,০০০টি সাধারণ শেয়ার
৩০,০০,০০০
==========
তলবকৃত ও আদায়কৃত মূলধন:
    প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের ৩,০০,০০০টি পূর্ণ আদায়কৃত শেয়ার
৩০,০০,০০০
সঞ্চিতি ও উদ্বৃত্ত:
    শেয়ার অধিহার হিসাব
৩,০০,০০০ ৩৩,০০,০০০
মোট ইকুইটি ও দায় (Total Equity & Liabilities) ৩৩,০০,০০০
=============

মন্তব্য: মোট পরিসম্পদ ৩৩,০০,০০০ টাকা এবং মোট ইকুইটি ও দায় ৩৩,০০,০০০ টাকা হওয়ায় আর্থিক বিবরণী সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে মিলে গেছে।

৬. পরীক্ষার খাতায় ১০ এ ১০ নম্বর নিশ্চিত করার ৭টি গোল্ডেন রুল

  1. মূলধনে কেবল লিখিত মূল্য যাবে: শেয়ার আবেদন থেকে মূলধন হিসাবে টাকা স্থানান্তরের সময় সর্বদা শেয়ারের মূল অভিহিত মূল্য (১০ টাকা) দিয়ে গুণ করবেন। অধিহার বা অবহারের অংশ কখনো মূলধন হিসাবে যাবে না।
  2. অধিহার ক্রেডিট কিন্তু অবহার ডেবিট: অধিহার কোম্পানির জন্য মূলধন জাতীয় আয় তাই এটি ক্রেডিট হয়। অবহার কোম্পানির মূলধন জাতীয় ক্ষতি তাই জাবেদায় ডেবিট হয়।
  3. ফেরতের টাকার দর: অতিরিক্ত আবেদনের টাকা ফেরত দেওয়ার সময় যে দরে টাকা পাওয়া গিয়েছিল ঠিক সেই দরেই ফেরত দিতে হবে (অধিহারসহ নেওয়া হলে অধিহারসহ ১১ টাকায় ফেরত যাবে)।
  4. অনুমোদিত ও ইস্যুকৃত মূলধন ক্লোজ করা: আর্থিক বিবরণীতে অনুমোদিত মূলধন এবং ইস্যুকৃত মূলধনের টাকার নিচে দুটি সমান্তরাল রেখা টেনে হিসাব বন্ধ করে দিতে ভুলবেন না। এগুলো যোগফলে আসে না।
  5. অবলেখকের কমিশনের স্থান: অবলেখকের কমিশন বা প্রাথমিক খরচ একটি অসমন্বিত ব্যয়, এটি আর্থিক অবস্থার বিবরণীতে সম্পত্তির পাশে 'অসমন্বিত ব্যয়' শিরোনামে দেখাতে হবে।
  6. শেয়ার অধিহারের স্থান: শেয়ার অধিহার দায়ের পাশে 'সঞ্চিতি ও উদ্বৃত্ত' শিরোনামে বসে।
  7. ব্যাংক খতিয়ানের নির্ভুলতা: ব্যাংক হিসাবের সমাপনী উদ্বৃত্ত বের করার সময় মোট প্রাপ্তি থেকে ফেরত ও অবলেখকের কমিশন বাদ দিতে ভুলে গেলে আর্থিক অবস্থার বিবরণী মিলবে না।

৭. শেয়ার ইস্যু সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. শেয়ার ও স্টকের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?

শেয়ার হলো কোম্পানির মূলধনের অবিভাজ্য ও নির্দিষ্ট সংখ্যাক্রম বিশিষ্ট একক, যার একটি নির্দিষ্ট অভিহিত মূল্য থাকে এবং যা আংশিক পরিশোধিত হতে পারে। অপরদিকে স্টক হলো পূর্ণ আদায়কৃত কতগুলো শেয়ারের একত্রিত রূপ, যার কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাক্রম থাকে না এবং যাকে যেকোনো ক্ষুদ্র ভগ্নাংশে স্থানান্তর করা যায়।

২. বোনাস শেয়ার ও রাইট শেয়ারের মধ্যে পার্থক্য কী?

কোম্পানি তার অর্জিত মুনাফা বা সঞ্চিতি মূলধনায়নের মাধ্যমে বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের বিনামূল্যে যে শেয়ার বণ্টন করে, তাকে বোনাস শেয়ার বলে। অপরদিকে কোম্পানি ভবিষ্যতে নতুন শেয়ার ছাড়লে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগদ মূল্যে শেয়ার কেনার যে অধিকার দেয়, তাকে রাইট শেয়ার বলে।

৩. ন্যূনতম চাঁদা (Minimum Subscription) কী?

কোম্পানির ব্যবসা শুরু এবং প্রাথমিক দায়দেনা মেটানোর জন্য বিবরণপত্র বিলির পর শেয়ার ক্রয়ের যে সর্বনিম্ন পরিমাণ আবেদন পাওয়া আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক, তাকে ন্যূনতম চাঁদা বলে। কোম্পানি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ন্যূনতম আবেদন না পাওয়া গেলে কোম্পানি শেয়ার বিলি করতে পারে না এবং সকল অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকে।

৪. শেয়ার অবলেখক (Underwriter) কে এবং তাদের ভূমিকা কী?

যে ব্যক্তি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে, যদি সাধারণ জনগণ কোম্পানির প্রস্তাবিত শেয়ারের সম্পূর্ণ অংশ ক্রয় না করে, তবে অবশিষ্ট অবিক্রীত শেয়ার তারা নিজেরা ক্রয় করবে, তাদের অবলেখক বলা হয়। এর বিনিময়ে কোম্পানি তাদের নির্দিষ্ট হারে কমিশন প্রদান করে।

৫. শেয়ার বাজেয়াপ্তকরণ (Forfeiture of Shares) বলতে কী বোঝায়?

কোম্পানি কর্তৃক শেয়ারের কিস্তির বা তলবের টাকা বারবার চেয়ে নোটিশ দেওয়ার পরও যদি কোনো শেয়ারহোল্ডার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে পরিচালক পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐ শেয়ারহোল্ডারের সদস্যপদ বাতিল ও পূর্বে জমা দেওয়া টাকা বাজেয়াপ্ত করাকে শেয়ার বাজেয়াপ্তকরণ বলে।

Post a Comment

Previous Post Next Post