এসএসসি রসায়ন: ৩য় অধ্যায় পদার্থের গঠনের সেরা ১০টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও সমাধান

SSC Chemistry Structure of Matter Chapter QnA Guide

এসএসসি রসায়ন পরীক্ষার ৩য় অধ্যায় 'পদার্থের গঠন' সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। পরমাণুর মূল কণিকা, বোর ও রাদারফোর্ডের মডেল এবং আইসোটোপ থেকে প্রতি বছরই অনুধাবনমূলক (খ) প্রশ্ন আসে। নিচে বোর্ড পরীক্ষায় বারবার আসা শীর্ষ অনুধাবনমূলক প্রশ্নের টু-দ্য-পয়েন্ট উত্তর দেওয়া হলো:

১. পরমাণু সামগ্রিকভাবে চার্জ নিরপেক্ষ কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: একটি সাধারণ নিরপেক্ষ পরমাণুর কেন্দ্রে (নিউক্লিয়াসে) যতসংখ্যক ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন থাকে, নিউক্লিয়াসের বাইরে ঠিক ততসংখ্যক ঋণাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন অবস্থান করে। প্রোটন ও ইলেকট্রনের আধানের পরিমাণ সমান কিন্তু বিপরীতধর্মী (একটি $+1.6 \times 10^{-19}\text{ C}$ এবং অন্যটি $-1.6 \times 10^{-19}\text{ C}$)। সমান সংখ্যক বিপরীত আধান একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। পরমাণুর অপর কণিকা নিউট্রন আধানহীন হওয়ায় সামগ্রিকভাবে একটি স্বাভাবিক পরমাণু বিদ্যুৎ নিরপেক্ষ বা আধানহীন থাকে।

২. পরমাণুর মূল ভর নিউক্লিয়াসে পুঞ্জীভূত থাকে কেন?

উত্তর: পরমাণু মূলত ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে প্রোটন ও নিউট্রনের ভর প্রায় সমান (প্রায় $1.67 \times 10^{-24}\text{ g}$), কিন্তু একটি ইলেকট্রনের ভর প্রোটনের ভরের তুলনায় প্রায় ১৮৪০ গুণ কম ($9.11 \times 10^{-28}\text{ g}$)। ইলেকট্রনের এই অতি নগণ্য ভর পরমাণুর সামগ্রিক ভরের তুলনায় একেবারেই উপেক্ষণীয়। যেহেতু ভারী কণিকা প্রোটন ও নিউট্রন পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রীয় স্থান নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে, তাই পরমাণুর প্রায় সম্পূর্ণ ভরই নিউক্লিয়াসে পুঞ্জীভূত থাকে।

৩. ক্লোরিনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ৩৫.৫ হয় কেন?

উত্তর: প্রকৃতিতে কোনো মৌলের একাধিক আইসোটোপ বিদ্যমান থাকলে তাদের শতকরা প্রাচুর্যতার ওপর ভিত্তি করে গড় আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর হিসাব করা হয়। প্রকৃতিতে ক্লোরিনের দুটি প্রধান আইসোটোপ পাওয়া যায়: ক্লোরিন-৩৫ (৭৫%) এবং ক্লোরিন-৩৭ (২৫%)। এদের গড় হিসাব করলে মান পাওয়া যায়: $\frac{(35 \times 75) + (37 \times 25)}{100} = 35.5$। আইসোটোপ দুটির ভরের আনুপাতিক গড়ের ফলেই ক্লোরিনের আপেক্ষিক পারমাণবিক ভর ভগ্নাংশ বা ৩৫.৫ হয়।

উপসংহার

রসায়নে অনুধাবনমূলক প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পেতে সংজ্ঞার সাথে সঠিক বৈজ্ঞানিক সমীকরণ ও যুক্তি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা জরুরি। নিয়মিত এই প্রশ্নগুলো প্র্যাকটিস করলে পরীক্ষায় শতভাগ আত্মবিশ্বাস বজায় থাকবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post