এসএসসি সাধারণ বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অংশে পূর্ণ নম্বর নিশ্চিত করার জন্য ২য় অধ্যায় 'জীবকোষ ও টিস্যু' সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। সৃজনশীল প্রশ্নের (খ) অংশে ২ নম্বরের অনুধাবনমূলক প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই মূল বৈজ্ঞানিক যুক্তি না লিখে অপ্রাসঙ্গিক ভূমিকা লেখে, যার ফলে পুরো নম্বর পাওয়া যায় না। বিগত বছরগুলোর বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোষের অঙ্গাণু ও জটিল টিস্যুর কাজ থেকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই ধরনের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন আসে। নিচে পরীক্ষায় শতভাগ নম্বর পাওয়ার মতো সাজানো উত্তর তুলে ধরা হলো:
১. লাইসোসোমকে কেন আত্মঘাতী থলিকা (Suicidal Bag) বলা হয়?
উত্তর: লাইসোসোম হলো সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত একক পর্দাবেষ্টিত এমন এক ধরনের ক্ষুদ্র অঙ্গাণু, যার ভেতরে তীব্র অম্লীয় হাইড্রোলাইটিক এনজাইম থাকে। সাধারণ অবস্থায় এই এনজাইমগুলো কোষে প্রবেশকারী ক্ষতিকর জীবাণু ও বহিরাগত বস্তুকে ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে কোষকে রক্ষা করে। কিন্তু তীব্র প্রতিকূল অবস্থায়, যেমন দীর্ঘ সময় তীব্র খাদ্য সংকট বা অক্সিজেন ঘাটতি হলে, লাইসোসোমের প্রাচীর ফেটে যায়। ফলে ভেতরের শক্তিশালী পাচক এনজাইমগুলো বের হয়ে এসে নিজস্ব কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুগুলোকেই হজম বা ধ্বংস করে ফেলে। তীব্র আত্মবিনাশী এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই লাইসোসোমকে আত্মঘাতী থলিকা বা স্কোয়াড বলা হয়।
২. রক্তকে কেন তরল যোজক কলা (Fluid Connective Tissue) বলা হয়?
উত্তর: ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন যে কলা বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং যার মাতৃকা কঠিন না হয়ে তরল প্রকৃতির হয়, তাকে তরল যোজক কলা বলে। রক্ত মূলত তরল মাতৃকা (রক্তরস বা প্লাজমা) এবং এর মধ্যে ভাসমান তিন ধরণের রক্তকণিকা (লোহিত, শ্বেত ও অণুচক্রিকা) নিয়ে গঠিত। রক্ত সারা শরীরে অক্সিজেন, পুষ্টি উপাদান ও হরমোন পরিবহন করে দেহের অভ্যন্তরীণ প্রতিটি অঙ্গ ও টিস্যুর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও ভারসাম্য রক্ষা করে। তরল মাতৃকার উপস্থিতি এবং দেহের সংযোগকারী ভূমিকার জন্যই রক্তকে তরল যোজক কলা বলা হয়।
৩. জাইলেম টিস্যুকে কেন পরিবহন কলা বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উদ্ভিদের মূলরোম দ্বারা মাটি থেকে শোষিত পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় তৈরি খাদ্য সারা দেহে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে পরিবহন টিস্যু। জাইলেম মূলত চার ধরনের উপাদান (ট্রাকিড, ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার) নিয়ে গঠিত একটি জটিল স্থায়ী টিস্যু। এর মধ্যে ট্রাকিড ও ভেসেলের ফাঁপা নলের মতো গঠন মাটি থেকে গৃহীত রস অভিকর্ষের বিপরীতে একমুখী প্রবাহে উদ্ভিদের পাতায় পৌঁছে দেয়। খাদ্য তৈরির কাঁচামাল সরাসরি সরবরাহ করায় জাইলেম টিস্যুকে পরিবহন কলা বলা হয়।
৪. পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পাওয়ার বাস্তব টিপস
বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা অনুধাবনমূলক প্রশ্নে শুধু সংজ্ঞা লিখে খাতা শেষ করে। মনে রাখবেন, প্রশ্নের প্রথম লাইনেই সরাসরি মূল বৈজ্ঞানিক কারণটি লিখবেন, এরপরের ২-৩ লাইনে এর ফলাফল বা প্রভাব ব্যাখ্যা করবেন। প্রয়োজনে পেন্সিল দিয়ে খুব ছোট রাফ স্কেচ (যেমন লাইসোসোমের এনজাইম লিকেজ বা জাইলেমের নল) দেখিয়ে দিলে পরীক্ষক খুশি হয়ে পূর্ণ নম্বর দেন।
জীবকোষ ও টিস্যু নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: উদ্ভিদকোষে কোষপ্রাচীর থাকে কিন্তু প্রাণীকোষে থাকে না কেন?
উত্তর: উদ্ভিদ চলাচল করতে পারে না, তাই প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশে বাহ্যিক আঘাত থেকে রক্ষা ও দৃঢ়তা দিতে সেলুলোজ নির্মিত শক্ত কোষপ্রাচীর প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে প্রাণীরা সচল হওয়ায় তাদের কোষকে নমনীয় রাখতে কোষপ্রাচীর থাকে না।
প্রশ্ন: ক্লোরোপ্লাস্টকে উদ্ভিদের রান্নাঘর বলা হয় কেন?
উত্তর: ক্লোরোপ্লাস্টে ক্লোরোফিল রঞ্জক থাকে যা সৌরশক্তি শোষণ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই অক্সাইড ও পানি থেকে উদ্ভিদের জন্য শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে।
Post a Comment