এইচএসসি রসায়ন ২য় পত্র: ৩য় অধ্যায় 'পরিমাণগত রসায়ন' আয়ন-ইলেকট্রন পদ্ধতিতে জারণ-বিজারণ সমতাকরণ, মোলারিটি, ppm ও সৃজনশীল বোর্ড সমাধান ২০২৬

HSC Chemistry 2nd Paper Quantitative Chemistry Redox Titration Molarity Board Solution 2026

উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে রসায়ন ২য় পত্রের যে কয়েকটি অধ্যায় নিশ্চিত এ প্লাস (A+) পাওয়ার চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য হয়, তার মধ্যে ৩য় অধ্যায় 'পরিমাণগত রসায়ন' (Quantitative Chemistry) সবার শীর্ষে। বিগত বছরগুলোর ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, দিনাজপুরসহ সকল শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, লিখিত অংশে এই অধ্যায় থেকে অবধারিতভাবে অন্তত ২টি পূর্ণাঙ্গ সৃজনশীল প্রশ্ন (২০ নম্বর) থাকে এবং বহুনির্বাচনি (MCQ) অংশে ৫ থেকে ৬টি প্রশ্ন আসে। তত্ত্বীয় বর্ণনার চেয়ে এই অধ্যায়টি প্রায় পুরোটাই যৌক্তিক গণনা, stoichiometry এবং অম্লীয় মাধ্যমে জারণ-বিজারণ সমতাকরণ নির্ভর। সঠিকভাবে ধারণা স্পষ্ট থাকলে এবং নিয়ম মেনে ক্যালকুলেশন করলে এই অধ্যায়ে কোনো নম্বর কাটার সুযোগ থাকে না—অর্থাৎ পুরো ১০ এ ১০ নম্বর নিশ্চিত করা যায়।

কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী আয়ন-ইলেকট্রন পদ্ধতিতে সমতাকরণ করতে গিয়ে ইলেকট্রন সংখ্যা মিলানো, দর্শক আয়ন যুক্ত করা কিংবা মোলারিটি থেকে পিপিএম (ppm) রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে পড়ে মূল্যবান নম্বর হারায়। তোমার এই ভীতি সম্পূর্ণ দূর করতে ২০২৬ সালের হালনাগাদ বোর্ড সিলেবাস অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ সূত্রাবলী, আয়ন-ইলেকট্রন পদ্ধতিতে অম্লীয় মাধ্যমের জারণ-বিজারণ সমতাকরণ এবং শীর্ষ বোর্ড স্ট্যান্ডার্ড সৃজনশীল প্রশ্নের পুঙ্খানুপুঙ্খ গাণিতিক বিশ্লেষণ নিচে সহজ-সরল ভাষায় উপস্থাপন করা হলো:

১. দ্রবণ ও বিভিন্ন ঘনমাত্রার একক: সূত্রাবলী ও শর্টকাট রূপান্তর

রসায়নে যেকোনো গাণিতিক সমস্যার মূল ভিত্তি হলো দ্রবণের ঘনমাত্রা সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। পরীক্ষায় মূলত চার ধরনের ঘনমাত্রার একক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়:

ক. মোলারিটি (Molarity - M)

নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রতি লিটার (১০০০ মিলি) দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যাকে ওই দ্রবণের মোলারিটি বলে। মোলারিটি তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল, কারণ তাপমাত্রা বাড়লে বা কমলে তরল দ্রবণের আয়তন পরিবর্তিত হয়।

মোলারিটির মৌলিক সূত্র:

S = \frac{1000 \ imes w}{M_w \ imes V(\ ext{mL})} \quad \ ext{অথবা} \quad w = \frac{S \ imes M_w \ imes V(\ ext{mL})}{1000}

যেখানে, w = দ্রবের ভর (গ্রামে), M_w = দ্রবের আণবিক ভর, V = দ্রবণের আয়তন মিলিলিটারে (mL), এবং S = মোলার ঘনমাত্রা (mol/L বা M)।

খ. মোলালিটি (Molality - m)

প্রতি ১০০০ গ্রাম (১ কেজি) দ্রাবকে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যাকে মোলালিটি বলে। যেহেতু ভর তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয় না, তাই মোলালিটি তাপমাত্রা নিরপেক্ষ। ভর্তি পরীক্ষায় এই বৈশিষ্ট্যটি প্রায়ই অনুধাবন ও বহুনির্বাচনিতে আসে।

গ. শতকরা ঘনমাত্রা (% w/v এবং % w/w)

১০০ মিলি দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের ভরকে % (w/v) বলা হয়। শতকরা হার থেকে সরাসরি মোলারিটিতে রূপান্তরের শর্টকাট বোর্ড ফর্মুলা:

M = \frac{10 \ imes x}{M_w}

উদাহরণ: ৫% (w/v) Na2CO3 দ্রবণের মোলারিটি কত? এখানে x = 5, Na2CO3 এর আণবিক ভর Mw = 106। অতএব, M = (10 × 5) / 106 = 0.4717 M। ক্যালকুলেটরে এক সেকেন্ডেই সমাধান বের করা সম্ভব!

ঘ. পিপিএম (ppm - Parts Per Million) ও পিপিবি (ppb)

কোনো দ্রবণের প্রতি ১০ লক্ষ ভাগে দ্রবের যত ভাগ উপস্থিত থাকে তাকে ppm বলে। জলীয় দ্রবণে ১ ppm = ১ mg/L = ১ g/m³ = ১০⁻³ g/L। মোলারিটি থেকে ppm-এ রূপান্তরের প্রত্যক্ষ সূত্র:

\ ext{ppm} = S \ imes M_w \ imes 10^3 \ ext{ mg/L}

ঘনমাত্রার একক সংজ্ঞা / প্রকাশের মাধ্যম তাপমাত্রার ওপর নির্ভরতা বোর্ড পরীক্ষার গুরুত্ব
মোলারিটি (M) mol/L (প্রতি লিটারে মোল সংখ্যা) তাপমাত্রা পরিবর্তনশীল (তাপ বাড়লে ঘনমাত্রা কমে) টাইট্রেশন ও গাণিতিক অংশে সর্বাধিক ব্যবহৃত
মোলালিটি (m) mol/kg (প্রতি কেজি দ্রাবকে মোল সংখ্যা) তাপমাত্রা নিরপেক্ষ (অপরিবর্তিত থাকে) অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও থার্মোডাইনামিক্সে আসে
পিপিএম (ppm) mg/L (অতি লঘু দ্রবণের ঘনমাত্রা) তাপমাত্রা পরিবর্তনশীল পরিবেশ দূষণ ও আয়রনের পরিমাণ নির্ণয়ে আসে
শতকরা হার (% w/v) g/100 mL (প্রতি ১০০ মিলিতে দ্রবের গ্রাম ভর) তাপমাত্রা পরিবর্তনশীল উদ্দীপকে দ্রবণ তৈরিতে প্রায়ই উল্লেখ থাকে

২. জারণ-বিজারণ (Redox) বিক্রিয়া ও আয়ন-ইলেকট্রন পদ্ধতিতে সমতাকরণ

বোর্ড পরীক্ষার সৃজনশীল প্রশ্নের 'গ' বা 'ঘ' নম্বরে আয়ন-ইলেকট্রন পদ্ধতিতে সমতাকরণ প্রায় ১০০% নিশ্চিত প্রশ্ন। সমতাকরণ করার জন্য জারক ও বিজারকের প্রাথমিক পরিবর্তনগুলো মুখস্থ থাকা আবশ্যক:

ক. প্রধান প্রধান জারকের বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া (অম্লীয় মাধ্যমে)

  • পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4): পারম্যাঙ্গানেট আয়ন (MnO4⁻) অম্লীয় মাধ্যমে ৫টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Mn²⁺ আয়নে পরিণত হয়।
    MnO4⁻ + 8H⁺ + 5e⁻ → Mn²⁺ + 4H2O (জারণ সংখ্যার পরিবর্তন: +7 থেকে +2)
  • পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট (K2Cr2O7): ডাইক্রোমেট আয়ন (Cr2O7²⁻) অম্লীয় মাধ্যমে ৬টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে ২টি Cr³⁺ আয়নে রূপান্তরিত হয়।
    Cr2O7²⁻ + 14H⁺ + 6e⁻ → 2Cr³⁺ + 7H2O (জারণ সংখ্যার পরিবর্তন: +6 থেকে +3)

খ. প্রধান প্রধান বিজারকের জারণ অর্ধবিক্রিয়া

  • ফেরাস সালফেট (FeSO4): Fe²⁺ একটি ইলেকট্রন বর্জন করে Fe³⁺-এ পরিণত হয়।
    Fe²⁺ → Fe³⁺ + e⁻
  • অক্সালিক এসিড (H2C2O4): অক্সালেট আয়ন (C2O4²⁻) ২টি ইলেকট্রন বর্জন করে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়।
    C2O4²⁻ → 2CO2 + 2e⁻
  • হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2): পারঅক্সাইড ২টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে অক্সিজেন অণু তৈরি করে।
    H2O2 → O2 + 2H⁺ + 2e⁻
  • পটাশিয়াম আয়োডাইড (KI): আয়োডাইড আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে আয়োডিন অণুতে পরিণত হয়।
    2I⁻ → I2 + 2e⁻

গ. আয়ন-ইলেকট্রন পদ্ধতিতে সমতাকরণের ৪টি মাস্টার স্টেপ

  1. অর্ধবিক্রিয়ায় বিভাজন: বিক্রিয়ার জারক ও বিজারক চিহ্নিত করে জারণ অর্ধবিক্রিয়া ও বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া আলাদা করে লিখবে।
  2. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন সমতা: অম্লীয় মাধ্যমে যে পাশে যতটি অক্সিজেন পরমাণু কম আছে, ঠিক সে পাশে ততটি পানির অণু (H2O) যোগ করবে। এরপর বিপরীত পাশে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রোটন (H⁺) যোগ করবে।
  3. ইলেকট্রন আদান-প্রদানের সমতা: জারণ অর্ধবিক্রিয়ার বর্জিত ইলেকট্রন এবং বিজারণ অর্ধবিক্রিয়ার গৃহীত ইলেকট্রন সমান করার জন্য উপযুক্ত পূর্ণসংখ্যা দ্বারা উভয় সমীকরণকে গুণ করে যোগ করবে।
  4. দর্শক আয়ন (Spectator Ions) সংযোজন: আয়নিক সমীকরণে দর্শক আয়ন (যেমন: K⁺, SO4²⁻) যুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ আণবিক সমীকরণ গঠন করবে।

বাস্তব উদাহরণ: অম্লীয় মাধ্যমে KMnO4 দ্বারা FeSO4 এর সমতাকরণ

বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া: MnO4⁻ + 8H⁺ + 5e⁻ → Mn²⁺ + 4H2O ... (১)
জারণ অর্ধবিক্রিয়া: Fe²⁺ → Fe³⁺ + e⁻ ... (২)

সমীকরণ (২)-কে ৫ দ্বারা গুণ করে সমীকরণ (১)-এর সাথে যোগ করি:

MnO4⁻ + 8H⁺ + 5Fe²⁺ → Mn²⁺ + 5Fe³⁺ + 4H2O (আয়নিক সমতাকৃত সমীকরণ)

এবার প্রয়োজনীয় দর্শক আয়ন (K⁺ এবং SO4²⁻) উভয় পাশে যোগ করে পাই পূর্ণাঙ্গ আণবিক সমীকরণ:

2KMnO4 + 10FeSO4 + 8H2SO4 → K2SO4 + 2MnSO4 + 5Fe2(SO4)3 + 8H2O

মাস্টার রেশিও: লক্ষ্য করো, ২ মোল KMnO4 সম্পূর্ণ বিক্রিয়া করতে ১০ মোল FeSO4 প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ ১ মোল KMnO4 ≡ ৫ মোল FeSO4 ≡ ৫ মোল Fe²⁺। এই অনুপাতটি টাইট্রেশনের অঙ্কের প্রাণ!

৩. টাইট্রেশন ও মিশ্রণের প্রকৃতি নির্ণয়ের গাণিতিক ব্লুপ্রিন্ট

পরীক্ষায় প্রায়ই দুটি বা তিনটি ভিন্ন পাত্রের দ্রবণ মিশ্রিত করে মিশ্রণটি অম্লীয়, ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ হবে তা জানতে চাওয়া হয়। এর জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো তুল্য সংখ্যা (Equivalence Factor - e) প্রয়োগ করা:

V_1 \ imes S_1 \ imes e_1 = V_2 \ imes S_2 \ imes e_2

  • মনোপ্রোটিক এসিড (HCl, HNO3): e = 1
  • ডাইপ্রোটিক এসিড (H2SO4, H2C2O4): e = 2
  • মনোবেসিক ক্ষার (NaOH, KOH): e = 1
  • ডাইবেসিক ক্ষার (Na2CO3, Ca(OH)2): e = 2

যদি এসিডের মোট তুল্য মোল ক্ষারের মোট তুল্য মোলের চেয়ে বেশি হয়, তবে মিশ্রণটি অম্লীয় হবে। অবশিষ্ট এসিডের মোলার ঘনমাত্রা নির্ণয় করে সহজে দ্রবণের pH হিসেব করা যায়: pH = -log[H⁺]।

৪. এইচএসসি বোর্ড স্ট্যান্ডার্ড সৃজনশীল প্রশ্ন ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান

বোর্ড উদ্দীপক:

পাত্র-A: 25 mL 0.05 M KMnO4 দ্রবণ।
পাত্র-B: 20 mL লঘু H2SO4 মিশ্রিত ভেজালযুক্ত লোহার তারের দ্রবণ (লোহার তারের প্রাথমিক ভর ছিল 0.85 গ্রাম)।
পাত্র-C: 30 mL 0.1 M অক্সালিক এসিড (H2C2O4) দ্রবণ।

প্রশ্ন (গ): পাত্র-B এর সম্পূর্ণ Fe²⁺ আয়নকে জারিত করতে পাত্র-A এর সম্পূর্ণ KMnO4 দ্রবণ প্রয়োজন হলে লোহার তারটিতে লোহার বিশুদ্ধতার শতকরা হার নির্ণয় কর।

সমাধান:

অম্লীয় মাধ্যমে KMnO4 এবং FeSO4-এর মধ্যকার জারণ-বিজারণ সমতাকৃত সমীকরণ থেকে আমরা জানি:

2KMnO4 + 10FeSO4 + 8H2SO4 → K2SO4 + 2MnSO4 + 5Fe2(SO4)3 + 8H2O

সমীকরণ মতে, ২ মোল KMnO4 ≡ ১০ মোল Fe²⁺ ≡ ৫ × ২ মোল Fe
বা, ১ মোল KMnO4 ≡ ৫ মোল Fe²⁺ ≡ ৫ × ৫৫.৮৫ গ্রাম Fe = ২৭৯.২৫ গ্রাম Fe।

আমরা জানি, ১০০০ mL ১ M KMnO4 দ্রবণ ≡ ৫ × ৫৫.৮৫ গ্রাম বিশুদ্ধ Fe = ২৭৯.২৫ গ্রাম Fe।
উদ্দীপকে পাত্র-A তে ব্যবহৃত KMnO4 এর আয়তন V = 25 mL এবং ঘনমাত্রা S = 0.05 M।

অতএব, 25 mL 0.05 M KMnO4 দ্রবণ দ্বারা জারিত বিশুদ্ধ লোহার ভর (w):

w = \frac{25 \ imes 0.05 \ imes 5 \ imes 55.85}{1000} = \frac{349.0625}{1000} = 0.3491 \ ext{ গ্রাম}

উদ্দীপকে দেওয়া লোহার তারের মোট ভর ছিল = ০.৮৫ গ্রাম।
সুতরাং, তারটিতে লোহার বিশুদ্ধতার শতকরা পরিমাণ (%):

\ ext{বিশুদ্ধতার হার} = \left( \frac{0.3491}{0.85} \right) \ imes 100\% = 41.07\%

উত্তর: লোহার তারটিতে বিশুদ্ধ লোহার পরিমাণ ছিল ০.৩৪৯১ গ্রাম এবং বিশুদ্ধতার হার ৪১.০৭%।

প্রশ্ন (ঘ): পাত্র-A এবং পাত্র-C এর সম্পূর্ণ দ্রবণকে যদি অম্লীয় মাধ্যমে একটি বড় পাত্রে মিশ্রিত করা হয়, তবে কোনো জারক বা বিজারক অবশিষ্ট থাকবে কি? গাণিতিক যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।

সমাধান:

অম্লীয় মাধ্যমে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4) ও অক্সালিক এসিডের (H2C2O4) রেডক্স বিক্রিয়ার সমতাকৃত সমীকরণ:

2KMnO4 + 5H2C2O4 + 3H2SO4 → K2SO4 + 2MnSO4 + 10CO2 + 8H2O

বিক্রিয়া অনুসারে: ২ মোল KMnO4 ≡ ৫ মোল H2C2O4।
অর্থাৎ, ১ মোল KMnO4 প্রশমিত করতে প্রয়োজন = (৫/২) = ২.৫ মোল H2C2O4।

এখন উভয় পাত্রের মূল মোল সংখ্যা হিসেব করি:

  • পাত্র-A তে KMnO4 এর মোল সংখ্যা, n(KMnO4) = V(L) × S = (25 / 1000) × 0.05 = 0.00125 মোল।
  • পাত্র-C তে H2C2O4 এর মোল সংখ্যা, n(H2C2O4) = V(L) × S = (30 / 1000) × 0.1 = 0.003 মোল।

সমীকরণ অনুযায়ী, ০.০০১২৫ মোল KMnO4-কে সম্পূর্ণ জারিত করতে প্রয়োজনীয় অক্সালিক এসিডের পরিমাণ:

n(\ ext{H2C2O4})_{req} = 0.00125 \ imes 2.5 = 0.003125 \ ext{ মোল}

কিন্তু পাত্র-C তে অক্সালিক এসিড সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ০.০০৩ মোল, যা প্রয়োজনীয় ০.০০৩১২৫ মোলের চেয়ে কম।
অতএব, অক্সালিক এসিড এখানে সীমিত বিক্রিয়ক (Limiting Reactant) হিসেবে সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে এবং পাত্রে কিছু পরিমাণ জারক KMnO4 অবশিষ্ট থাকবে।

বিক্রিয়া শেষে অতিরিক্ত অবশিষ্ট KMnO4 এর মোল সংখ্যা:

\ ext{অবশিষ্ট KMnO4} = 0.00125 - \left( \frac{0.003}{2.5} \right) = 0.00125 - 0.00120 = 0.00005 \ ext{ মোল}

মন্তব্য: গাণিতিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, মিশ্রণটিতে ০.০০৩ মোল অক্সালিক এসিড সম্পূর্ণরূপে জারিত হবে এবং পরিশেষে মিশ্রণে ০.০০০০৫ মোল জারক পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4) উদ্বৃত্ত বা অবশিষ্ট থাকবে। ফলে মিশ্রণের গোলাপি বর্ণ সম্পূর্ণ বর্ণহীন হবে না।

৫. পরীক্ষার হলের সাধারণ ভুলত্রুটি ও সিনিয়র মেন্টর টিপস

  • আণবিক ভর ভুল লেখা: পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের আণবিক ভর ১৫৮.০৩ এবং আয়রনের পারমাণবিক ভর ৫৫.৮৫। অনেকে ভুলবশত আয়রন ৫৬ লিখে ফেলে। বোর্ডে নিখুঁত উত্তরের জন্য ৫৫.৮৫ ব্যবহার করা নিরাপদ।
  • অম্লীয় মাধ্যমের অ্যাসিড নির্বাচন: জারণ-বিজারণ টাইট্রেশনে অম্লীয় মাধ্যম হিসেবে সর্বদা লঘু H2SO4 ব্যবহার করতে হয়। কখনোই HCl বা HNO3 ব্যবহার করা যায় না; কারণ HCl নিজেই জারিত হয়ে Cl2 গ্যাস উৎপন্ন করে এবং HNO3 নিজেই তীব্র জারক হিসেবে অনাকাঙ্ক্ষিত বিক্রিয়া ঘটায়। এই অনুধাবনমূলক প্রশ্নটি বোর্ড পরীক্ষায় বারবার আসে।
  • আয়নিক বনাম আণবিক সমীকরণ: প্রশ্নে যদি 'আয়ন-ইলেকট্রন পদ্ধতিতে সমতাকরণ কর' বলে, তবে অবশ্যই আয়নিক সমীকরণ লিখে শেষ ধাপে দর্শক আয়ন যুক্ত করতে হবে। সরাসরি আণবিক সমীকরণ মুখস্থ লিখে দিলে পুরো ৪ নম্বরের মধ্যে শূন্য পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৬. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন ১: মোলারিটি ও নরম্যালিটির মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর: নরম্যালিটি (N) = মোলারিটি (M) × তুল্য সংখ্যা (e)। যেমন: ১ M H2SO4 দ্রবণের নরম্যালিটি হবে (১ × ২) = ২ N, কারণ সালফিউরিক এসিডের প্রতি অণুতে ২টি প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু রয়েছে।

প্রশ্ন ২: প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ ও সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের মূল পার্থক্য কী?

উত্তর: যেসব পদার্থ প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়, বায়ুর উপাদান (যেমন: O2, CO2 বা জলীয় বাষ্প) দ্বারা আক্রান্ত হয় না এবং যাদের দ্বারা প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, তাদের প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে (যেমন: Na2CO3, H2C2O4, K2Cr2O7)। পক্ষান্তরে, যাদের ঘনমাত্রা বায়ুর সংস্পর্শে পরিবর্তিত হয় তাদের সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে (যেমন: NaOH, HCl, KMnO4)।

প্রশ্ন ৩: আয়োডোমিতি (Iodometry) এবং আয়োডিমিটির (Iodimetry) মধ্যে পার্থক্য কী?

উত্তর: প্রমাণ আয়োডিন (I2) দ্রবণ দ্বারা সরাসরি কোনো বিজারক পদার্থের পরিমাণ নির্ধারণ করার প্রক্রিয়াকে আয়োডিমিটি বলে। আর কোনো জারক পদার্থের সাথে আয়োডাইডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন মুক্ত আয়োডিনকে প্রমাণ সোডিয়াম থায়োসালফেট (Na2S2O3) দ্রবণ দ্বারা টাইট্রেশন করে পরিমাণ নির্ণয় করার পরোক্ষ পদ্ধতিকে আয়োডোমিতি বলে।

"}

Post a Comment

Previous Post Next Post