ই-পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং সমাধান গাইড ২০২৬: epassport.gov.bd পোর্টালে ৭টি স্ট্যাটাস (Submitted, Enrolment, Police Verification, Pending Approval, Ready for Issuance) আটকে থাকার কারণ ও দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার উপায়

E-Passport Police Verification and Status Tracking Solution Guide 2026

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপে সম্মানজনক কর্মসংস্থান, পবিত্র ওমরাহ ও হজ পালন, জরুরি উন্নত চিকিৎসা কিংবা নিছক অবসর ভ্রমণ—যেকোনো আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পাড়ি জমানোর প্রাথমিক ও অপরিহার্য রাষ্ট্রীয় সনদ হলো পাসপোর্ট। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে সনাতন ম্যানুয়াল ও এমআরপি (MRP) যুগ পেরিয়ে শতভাগ চিপযুক্ত ও অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক ই-পাসপোর্ট (e-Passport) ব্যবস্থা এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর। কভারে থাকা মাইক্রোপ্রসেসর চিপ, ১০ আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিশ স্ক্যানের সমন্বয়ে তৈরি এই পাসপোর্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর স্বয়ংক্রিয় ই-গেট (e-Gate) দিয়ে মাত্র বিশ সেকেন্ডেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা সম্ভব।

তবে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছবি তোলা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পন্ন করার পর সাধারণ আবেদনকারীদের যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপে ফেলে, তা হলো অনলাইন স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং (Online Status Tracking) এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন (Special Branch / DSB Police Verification)। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পোর্টালে প্রতিদিন স্ট্যাটাস চেক করতে গিয়ে লাখ লাখ নাগরিক দেখতে পান তাদের আবেদন সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে 'Pending for Approval', 'Police Verification in Process' কিংবা 'Under Processing at Central System' স্ট্যাটাসে থমকে আছে। অনেকে বুঝতে পারেন না কোন স্ট্যাটাসটির প্রকৃত অর্থ কী, কেন ফাইল নির্দিষ্ট টেবিলে আটকে থাকে, পুলিশ ভেরিফিকেশনে ঠিক কী কী নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে হয় এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সহায়তা ছাড়াই কীভাবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দ্রুততার সাথে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যায়। ২০২৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (DIP) পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় সেন্ট্রাল ডাটাবেজের সাথে সংযুক্ত করেছে। একজন সিনিয়র ডিজিটাল নাগরিক সেবা গবেষক ও পাসপোর্ট আইন বিশ্লেষক হিসেবে আজ আমি ২০২৬ সালের হালনাগাদ সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৭টি প্রধান অনলাইন স্ট্যাটাসের অভ্যন্তরীণ রহস্য ও সমাধান, পুলিশ ভেরিফিকেশনে প্রয়োজনীয় ১০টি দলিলের শতভাগ নির্ভুল চেকলিস্ট, স্ট্যাটাস আটকে গেলে উপ-পরিচালক বা এসবি অফিসে যোগাযোগের সঠিক নিয়ম এবং কোনো প্রকার অতিরিক্ত অর্থ খরচ ছাড়াই দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার সম্পূর্ণ মাস্টার গাইডলাইন বিস্তারিত তুলে ধরছি:

১. ই-পাসপোর্টের ৭টি প্রধান অনলাইন স্ট্যাটাসের অর্থ ও আটকে থাকার সমাধান

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় পোর্টাল epassport.gov.bd-এ আবেদন ট্র্যাকিং করার সময় প্রধানত নিচের ৭টি স্ট্যাটাস দেখা যায়। প্রতিটি স্ট্যাটাসের সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক অর্থ এবং আটকে থাকলে কী করণীয় তা জানা অত্যন্ত জরুরি:

১. Submitted (আবেদন দাখিল হয়েছে)

অর্থ: আপনি অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে চূড়ান্তভাবে সাবমিট করেছেন, কিন্তু এখনো পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে গিয়ে বায়োমেট্রিক দেননি অথবা অনলাইন চালান ভেরিফাই হয়নি।
করণীয়: নির্দিষ্ট তারিখে আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি, পেমেন্ট স্লিপ ও মূল এনআইডি নিয়ে আপনার আওতাধীন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে (RPO) উপস্থিত হয়ে ছবি ও আঙুলের ছাপ দিন।

২. Enrolment Approved (এনরোলমেন্ট অনুমোদিত)

অর্থ: পাসপোর্ট অফিসে আপনার ১০ আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ স্ক্যান ও ছবি গ্রহণ সফল হয়েছে এবং স্থানীয় ডাটা এন্ট্রি কর্মকর্তা তা সার্ভারে চূড়ান্তভাবে আপলোড করেছেন।
করণীয়: কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই। ফাইলটি এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চে (SB/DSB) প্রেরণের অপেক্ষায় রয়েছে। সাধারণত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরবর্তী ধাপে যায়।

৩. Police Verification in Process (পুলিশ তদন্ত চলমান)

অর্থ: আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানার সত্যতা ও কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য জেলা পুলিশ বিশেষ শাখা (DSB) বা মেট্রোপলিটন স্পেশাল ব্রাঞ্চের (SB) তদন্ত কর্মকর্তার (IO) কাছে ফাইল হস্তান্তর করা হয়েছে।
আটকে থাকার কারণ ও সমাধান: যদি এই স্ট্যাটাস ৭-১০ দিনের বেশি অপরিবর্তিত থাকে, তবে স্থানীয় থানা বা জেলা এসবি অফিসে যোগাযোগ করে আপনার তদন্ত কর্মকর্তার নাম ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তার সাথে দেখা করে তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় সার্ভারে সাবমিট করতে অনুরোধ জানান।

৪. Pending for Approval / Additional Approval (অনুমোদনের অপেক্ষায়)

অর্থ: পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট পাসপোর্ট অফিসে চলে এসেছে। এখন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক (AD) বা উপ-পরিচালক (DD) ফাইলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তার ড্যাশবোর্ডে রেখেছেন।
আটকে থাকার কারণ ও সমাধান: এই স্ট্যাটাসেই সবচেয়ে বেশি মানুষের ফাইল আটকে থাকে। পিতা-মাতার নামে ছোটখাটো অমিল, পুরোনো এমআরপি পাসপোর্টের ডাটার সাথে সামঞ্জস্যহীনতা বা পুলিশ রিপোর্টে কোনো অবজারভেশন থাকলে এটি আটকে থাকে। সমাধান হলো—মূল এনআইডি ও শিক্ষাগত সনদ নিয়ে সরাসরি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক বা উপ-পরিচালকের সাথে দেখা করা। তিনি ফিজিক্যাল ফাইল দেখে সিস্টেমে 'Approve' বাটনে চাপ দিলেই ফাইল তাৎক্ষণিক পরবর্তী ধাপে চলে যায়।

৫. Sent to HQ / Under Processing at Central System

অর্থ: আঞ্চলিক অফিস ফাইল অনুমোদন করেছে এবং তা ঢাকার আগারগাঁও কেন্দ্রীয় পাসপোর্ট ভবনে সেন্ট্রাল ডাটা সেন্টারে স্বয়ংক্রিয় প্রিন্টিং কিউতে (Printing Queue) যুক্ত হয়েছে।
করণীয়: এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কারিগরি ধাপ। এখানে কোনো ম্যানুয়াল তদবিরের সুযোগ নেই। সাধারণত ৩ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় প্রিন্টিং মেশিনে পাসপোর্ট বুকলেট প্রিন্ট সম্পন্ন হয়।

৬. Passport Printed / In Transit to RPO

অর্থ: আপনার ই-পাসপোর্ট সফলভাবে প্রিন্ট হয়ে কোয়ালিটি কন্ট্রোল চেক সম্পন্ন হয়েছে এবং ঢাকা থেকে নিরাপত্তা কুরিয়ার বা ডাকযোগে আপনার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
করণীয়: ঢাকা থেকে জেলা পর্যায়ে পাসপোর্ট পৌঁছাতে সাধারণত ২ থেকে ৪ কার্যদিবস সময় লাগে। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন।

৭. Passport is Ready for Issuance (পাসপোর্ট বিতরণের জন্য প্রস্তুত)

অর্থ: আপনার পাসপোর্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিতরণ কাউন্টারে এসে পৌঁছেছে এবং সিস্টেমে রিসিভ করা হয়েছে। একই সাথে আপনার মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হয়েছে।
করণীয়: মূল ডেলিভারি স্লিপ (Delivery Slip) এবং মূল এনআইডি কার্ড নিয়ে পাসপোর্ট অফিসের ডেলিভারি কাউন্টারে উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ দিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।

২. প্রয়োজনীয় সরকারি ওয়েবসাইট ও ট্র্যাকিং পোর্টাল

দালাল বা ভুয়া থার্ড পার্টি অ্যাপ এড়িয়ে সবসময় সরকারি অনুমোদিত অফিশিয়াল সিস্টেমে ট্র্যাকিং করুন:

  • ই-পাসপোর্ট অনলাইন ট্র্যাকিং পোর্টাল: https://www.epassport.gov.bd/authorization/application-status — অ্যাপ্লিকেশন আইডি ও জন্মতারিখ দিয়ে লাইভ স্ট্যাটাস চেক।
  • বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (DIP): https://dip.gov.bd — সরকারি প্রজ্ঞাপন, সার্কুলার ও অফিস নির্দেশিকা।
  • বাংলাদেশ পুলিশ বিশেষ শাখা (SB): https://police.gov.bd — পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও ভেরিফিকেশন সহায়তা।
  • পাসপোর্ট হেল্পলাইন ও সাপোর্ট: যেকোনো জটিলতায় কল করুন পাসপোর্ট কেন্দ্রীয় হটলাইন 16445 নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের অফিসিয়াল ফোন নম্বরে।

৩. পুলিশ ভেরিফিকেশনে প্রয়োজনীয় ১০টি কাগজের অফিশিয়াল চেকলিস্ট (Checklist Table)

পুলিশ তদন্ত কর্মকর্তার (IO) সামনে উপস্থিত হওয়ার সময় বা তিনি বাসায় পরিদর্শনে এলে নিচের কাগজপত্র ২ সেট প্রস্তুত রাখা আবশ্যক। কোনো একটি জরুরি কাগজ না থাকলে তদন্ত প্রতিবেদন আটকে যায়:

ক্রমিক কাগজপত্রের নাম ও বিবরণ কার জন্য প্রযোজ্য কপি ও সত্যায়ন নিয়ম জরুরি নির্দেশনা ও পুলিশি গুরুত্ব
০১ পাসপোর্ট আবেদনপত্র ও ডেলিভারি স্লিপ সকল প্রার্থী মূল স্লিপ + ১ সেট ফটোকপি পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রদত্ত বারকোডযুক্ত মূল ডেলিভারি স্লিপ এবং অনলাইন আবেদন ফর্মের কপি।
০২ জাতীয় পরিচয়পত্র (Smart NID) / ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সকল প্রার্থী মূল কপি + স্পষ্ট ফটোকপি ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ১৮ বছরের নিচে হলে ১৭ ডিজিটের অনলাইন ভেরিফাইড জন্ম নিবন্ধন সনদ।
০৩ পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সকল প্রার্থী ফটোকপি (১ সেট) পিতা-মাতার স্মার্ট এনআইডির স্পষ্ট কপি। পিতা বা মাতা মৃত হলে অতিরিক্ত হিসেবে মৃত্যু সনদপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
০৪ নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদপত্র (Chairman/Councillor Certificate) সকল প্রার্থী মূল কপি (১ সেট) স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা মেয়র বা সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক স্বাক্ষরিত মূল প্রত্যয়নপত্র।
০৫ স্থায়ী ঠিকানার জমির খতিয়ান / দলিলের কপি / ট্যাক্স রসিদ সকল প্রার্থী ফটোকপি (১ সেট) স্থায়ী ঠিকানায় পৈতৃক ভিটা বা নিজস্ব জমির আরএস/বিএস খতিয়ান, নামজারি দাখিলা অথবা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ।
০৬ বর্তমান ঠিকানার প্রমাণপত্র (Utility Bill / Rent Agreement) ভাড়াটিয়াদের ক্ষেত্রে ফটোকপি (১ সেট) বর্তমান ঠিকানা ভাড়া বাসা হলে সর্বশেষ মাসের বিদ্যুৎ/গ্যাস বিলের কপি অথবা বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্রের কপি।
০৭ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র / স্টুডেন্ট আইডি কার্ড শিক্ষার্থী / পেশাজীবী মূল কপি প্রদর্শন + ফটোকপি এসএসসি/এইচএসসি বা সমমানের মূল সনদপত্র। অধ্যয়নরত থাকলে বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্টুডেন্ট আইডি ও প্রত্যয়ন।
০৮ পেশাগত প্রমাণক / ট্রেড লাইসেন্স / এনওসি (NOC) চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী মূল কপি + ফটোকপি সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অফিসিয়াল ছাড়পত্র (NOC/GO), বেসরকারি চাকরিজীবীদের অফিস আইডি ও পে-স্লিপ, ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ই-ট্রেড লাইসেন্স।
০৯ নিকাহনামা / ম্যারেজ সার্টিফিকেট (বিবাহিতদের ক্ষেত্রে) বিবাহিত প্রার্থী ফটোকপি (১ সেট) বিবাহিত হলে নিকাহনামা বা বিবাহ সনদ এবং স্বামী বা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের স্পষ্ট ফটোকপি।
১০ পূর্ববর্তী পাসপোর্ট (Old Passport - প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) রিইস্যু প্রার্থী মূল পুরোনো পাসপোর্ট + ফটোকপি পূর্বে কোনো ম্যানুয়াল বা এমআরপি পাসপোর্ট থাকলে তা সঙ্গে রাখতে হবে। পাসপোর্ট হারিয়ে গিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ ডায়েরির (GD) মূল কপি।

৪. ই-পাসপোর্ট সরকারি ফি ও ডেলিভারি সময়সীমা তালিকা ২০২৬ (Fee & Timeline Table)

ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদকাল এবং ডেলিভারির গতির ক্যাটাগরি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সরকার নির্ধারিত সকল ফি-তে ১৫% ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ সরকারি ফি তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

পাসপোর্টের ধরন ও পৃষ্ঠা মেয়াদকাল নিয়মিত ডেলিভারি
(১৫-২১ কার্যদিবস)
জরুরি ডেলিভারি
(৭-১০ কার্যদিবস)
অতীব জরুরি ডেলিভারি
(২ কার্যদিবস - সুপার এক্সপ্রেস)
৪৮ পৃষ্ঠা (সাধারণ বুকলেট) ৫ বছর মেয়াদি ৪,০২৫/- টাকা ৬,৩২৫/- টাকা ৮,৬২৫/- টাকা*
৪৮ পৃষ্ঠা (সাধারণ বুকলেট) ১০ বছর মেয়াদি ৫,৭৫০/- টাকা ৮,০৫০/- টাকা ১০,৩৫০/- টাকা*
৬৪ পৃষ্ঠা (ঘন ঘন ভ্রমণকারীদের জন্য) ৫ বছর মেয়াদি ৬,৩২৫/- টাকা ৮,৬২৫/- টাকা ১২,০৭৫/- টাকা*
৬৪ পৃষ্ঠা (ঘন ঘন ভ্রমণকারীদের জন্য) ১০ বছর মেয়াদি ৮,০৫০/- টাকা ১০,৩৫০/- টাকা ১৩,৮০০/- টাকা*

* বিশেষ সতর্কবার্তা (সুপার এক্সপ্রেস ও পুলিশ ভেরিফিকেশন): সুপার এক্সপ্রেস (২ কার্যদিবস) ডেলিভারিতে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে আগেই নিজস্ব উদ্যোগে প্রি-পুলিশ ভেরিফিকেশন ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করে আনতে হয় অথবা জরুরি চিকিৎসার মতো বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া সাধারণ নতুন আবেদনে সুপার এক্সপ্রেস কার্যকর হয় না। তবে যাদের ইতোমধ্যে মেয়াদযুক্ত পাসপোর্ট রয়েছে এবং রিইস্যুর জন্য আবেদন করেছেন, তারা সরাসরি সুপার এক্সপ্রেস সেবা নিতে পারেন।

৫. ধাপে ধাপে অনলাইনে পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার সঠিক পদ্ধতি

ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে লাইভ পাসপোর্ট স্ট্যাটাস যাচাইয়ের পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:

ধাপ ১: অফিশিয়াল ট্র্যাকিং পোর্টালে প্রবেশ

ধাপ ২: আইডি নির্বাচন ও তথ্য এন্ট্রি

  • স্ক্রিনে দুটি অপশন দেখতে পাবেন: Application ID (ডেলিভারি স্লিপে থাকা ৪০০০- বা অন্য সংখ্যা দিয়ে শুরু নম্বর) অথবা Online Registration ID (OID) (অনলাইনে ফর্ম পূরণের পর প্রাপ্ত ওআইডি নম্বর e.g., OID100...)। যেকোনো একটি সিলেক্ট করুন।
  • আপনার নির্বাচিত আইডি নম্বরটি সঠিক বক্সে টাইপ করুন।
  • ক্যালেন্ডার আইকন থেকে আবেদনকারীর সঠিক জন্মতারিখ (Date of Birth) দিন-মাস-বছর অনুযায়ী নির্বাচন করুন।

ধাপ ৩: ক্যাপচা সমাধান ও ফলাফল দর্শন

  • 'I am human' বা রিক্যাপচা বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে নির্দেশিত ছবিগুলো মিলিয়ে ক্যাপচা ভেরিফাই করুন।
  • সবশেষে 'Check' বাটনে ক্লিক করলেই আপনার পাসপোর্টের বর্তমান রিয়েল-টাইম স্ট্যাটাস এবং প্রসেসিং হিস্ট্রি স্ক্রিনে দৃশ্যমান হবে।

৬. পুলিশ ভেরিফিকেশন সহজ করার ৫টি বাস্তব কৌশল ও দালালমুক্ত সমাধান

পুলিশ ভেরিফিকেশনে অযথা বিলম্ব বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে নিচের কৌশলগুলো অবলম্বন করা অত্যন্ত কার্যকর:

  1. তদন্ত কর্মকর্তার (IO) সাথে দ্রুত যোগাযোগ: এনরোলমেন্টের ৩-৪ দিন পর আপনার স্ট্যাটাস যখন 'Police Verification in Process' দেখাবে, তখন বসে না থেকে স্থানীয় থানা বা জেলা এসবি অফিসে গিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছ থেকে জেনে নিন আপনার এলাকার দায়িত্বে কোন এসআই বা এএসআই রয়েছেন। তার সাথে বিনম্রভাবে ফোনে যোগাযোগ করে বলুন আপনার প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রস্তুত রয়েছে।
  2. কাগজপত্রের ফাইল সুবিন্যস্ত রাখা: পুলিশ কর্মকর্তা যখন আপনাকে ডাকবেন বা বাসায় আসবেন, তখন উপরে উল্লিখিত ১০টি দলিলের মূল কপি এবং ফটোকপির ২ সেট ফাইল আলাদা ফোল্ডারে গুছিয়ে রাখুন। কাগজপত্র যত পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল হবে, কর্মকর্তা তত দ্রুত রিপোর্ট সাবমিট করবেন।
  3. স্থায়ী ঠিকানায় আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের সচেতন রাখা: আপনি যদি চাকরিসূত্রে ঢাকা বা অন্য শহরে থাকেন এবং স্থায়ী ঠিকানায় পিতা-মাতার ভিটে থাকে, তবে স্থানীয় এসবি পুলিশ গ্রামে তদন্তে যেতে পারে। গ্রামের বাড়িতে যেন নির্ভরযোগ্য কেউ উপস্থিত থাকে এবং প্রতিবেশীরা যেন আপনার পরিবার সম্পর্কে ইতিবাচক সাক্ষ্য দিতে পারেন তা আগে থেকেই জানিয়ে রাখুন।
  4. কোনো মামলা থাকলে আদালতের সার্টিফাইড কপি প্রস্তুত রাখা: আপনার নামে অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে তা গোপন করবেন না। মামলাটি খালাস হয়ে থাকলে খালাসের রায় বা জামিনে থাকলে জামিন আদেশের আদালতের সার্টিফাইড কপি (Certified True Copy) পুলিশ কর্মকর্তার ফাইলে যুক্ত করে দিন।
  5. মিথ্যা তথ্য বা ভুয়া ঠিকানা পরিহার: পাসপোর্ট একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা দলিল। স্থায়ী ঠিকানার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসত্য তথ্য দেবেন না। এসবি ভেরিফিকেশনে স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

৭. পাসপোর্ট পেন্ডিং বা আটকে যাওয়ার ৭টি মারাত্মক কারণ ও প্রতিকার (Warnings)

প্রতি বছর হাজার হাজার আবেদনকারীর পাসপোর্ট বিভিন্ন জটিলতায় মাসের পর মাস ঝুলে থাকে। নিচের ভুলগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক থাকা আবশ্যক:

  1. পুরোনো এমআরপি পাসপোর্ট গোপন করা (Biometric Duplicate): পূর্বে ম্যানুয়াল বা এমআরপি পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও অনেকে 'নতুন পাসপোর্ট' হিসেবে টিক দিয়ে আবেদন করেন। কিন্তু পাসপোর্ট অফিসের সেন্ট্রাল সার্ভারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া মাত্রই পুরোনো পাসপোর্টের রেকর্ড ম্যাচ করে যায় এবং আবেদনটি 'Pending for Approval' হয়ে আজীবনের জন্য লক হয়ে যায়। পূর্বে পাসপোর্ট থাকলে তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
  2. এনআইডি ও সার্টিফিকেটের তথ্যে অসঙ্গতি: জাতীয় পরিচয়পত্রের নামের বানান বা জন্মতারিখের সাথে শিক্ষাগত সনদের অমিল থাকলে অনুমোদন কর্মকর্তা ফাইল আটকে রাখেন। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী এনআইডি-কে প্রাধান্য দিয়ে এফিডেভিট সংযুক্ত করতে হয়।
  3. চাকরিজীবীদের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC/GO) না থাকা: সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা যদি ডিপার্টমেন্টাল এনওসি ছাড়া আবেদন করেন, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনে চাকরি ধরা পড়লে আবেদন সরাসরি বাতিল ও বিভাগীয় ব্যবস্থা হতে পারে।
  4. স্থায়ী ঠিকানায় কোনো অস্তিত্ব না পাওয়া: অনেকেই পৈতৃক ভিটেমাটি না থাকা সত্ত্বেও শুধু আত্মীয়ের ঠিকানাকে স্থায়ী ঠিকানা দেখিয়ে আবেদন করেন। এসবি তদন্তে গিয়ে যদি দেখে এলাকায় তাদের কোনো বাস্তুভিটা বা পরিচিতি নেই, তবে পুলিশ সরাসরি 'অ্যাডভার্স রিপোর্ট' (Adverse/Negative Report) দেয়।
  5. পুলিশ রিপোর্টের পর ফাইল এডি-র টেবিলে পড়ে থাকা: পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অনলাইনে সাবমিট করার পরও অনেক সময় পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালকের টেবিলে ফাইল পেন্ডিং থাকে। স্ট্যাটাস 'Pending for Approval' হয়ে ৭ দিন পার হলে সশরীরে সহকারী পরিচালকের সাথে দেখা করা ছাড়া সমাধান হয় না।
  6. অনলাইন পেমেন্ট চালানের অমিল: ব্যাংকে বা অনলাইনে ফি দেওয়ার সময় নাম বা তথ্যে ভুল থাকলে এ-চালান ভেরিফিকেশনে ফাইল রিজেক্ট হতে পারে।
  7. দালালদের ভুয়া প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়া: দালালরা অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট বের করে দেওয়ার দাবি করে। মনে রাখবেন, আধুনিক ডিজিটাল ই-পাসপোর্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্ভার বাইপাস করে কোনো পাসপোর্ট প্রিন্ট হওয়া অসম্ভব।

৮. পাসপোর্ট সংগ্রহ ও ডেলিভারি নেওয়ার অফিশিয়াল নিয়মাবলী

অনলাইন স্ট্যাটাসে 'Passport is Ready for Issuance' লেখা এলে এবং মোবাইলে নিশ্চিতকরণ এসএমএস পাওয়ার পর পাসপোর্ট সংগ্রহের ধাপসমূহ:

  • সশরীরে উপস্থিতি: ই-পাসপোর্ট একটি অতি সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক দলিল হওয়ায় আবেদনকারীকে বাধ্যতামূলকভাবে সশরীরে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে ডেলিভারি কাউন্টারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচ করে পাসপোর্ট গ্রহণ করতে হয়।
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: মূল ডেলিভারি স্লিপ (Delivery Slip), মূল এনআইডি কার্ড এবং পূর্ববর্তী পুরোনো পাসপোর্ট (যদি থাকে) সাথে নিয়ে যেতে হবে। পুরোনো পাসপোর্ট থাকলে সেখানে 'CANCELLED' সিল মেরে নতুন ই-পাসপোর্টের সাথে ফেরত দেওয়া হবে।
  • জরুরি ব্যতিক্রম (প্রতিনিধি দ্বারা গ্রহণ): আবেদনকারী গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বা বিশেষ কোনো কারণে সশরীরে যেতে অক্ষম হলে—প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা বা আদালতের মাধ্যমে ক্ষমতাপত্র (Authorization Letter) এবং রক্তের সম্পর্কের প্রমাণক দিয়ে প্রতিনিধির মাধ্যমে পাসপোর্ট গ্রহণ করা যায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পাসপোর্ট পিতা বা মাতা নিজ এনআইডি প্রদর্শন করে গ্রহণ করতে পারেন।

৯. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (In-Depth FAQ)

ই-পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন ও ট্র্যাকিং সংক্রান্ত নাগরিকদের সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত ৬টি জটিল প্রশ্নের সুস্পষ্ট সমাধান:

প্রশ্ন ১: পাসপোর্ট রিনিউ বা রিইস্যু করার সময় কি পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হয়?

উত্তর: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিপত্র অনুযায়ী, যদি আপনার পূর্ববর্তী পাসপোর্টের তথ্যের সাথে বর্তমান আবেদনের কোনো তথ্যের পরিবর্তন না থাকে (যেমন: নাম, পিতা-মাতার নাম বা স্থায়ী ঠিকানা একই থাকে), তবে পাসপোর্ট রিনিউ বা রিইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রয়োজন হয় না। ফাইল সরাসরি 'Enrolment Approved' থেকে প্রিন্টিং পর্যায়ে চলে যায়। তবে যদি স্থায়ী ঠিকানা বা মৌলিক তথ্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়, তবে পুনরায় পুলিশ ভেরিফিকেশন হতে পারে।

প্রশ্ন ২: 'Pending for Approval' স্ট্যাটাসে ১৫ দিন ধরে আটকে থাকলে আমার কী করা উচিত?

উত্তর: এই স্ট্যাটাসের অর্থ হলো পুলিশ রিপোর্ট ইতোমধ্যে অফিসে জমা হয়েছে, কিন্তু পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক বা উপ-পরিচালক কোনো কারণে ফাইলটি সাইন করেননি। এমন হলে আপনি আপনার মূল ডেলিভারি স্লিপ, মূল এনআইডি এবং শিক্ষাগত সনদের ফাইল নিয়ে সরাসরি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে সহকারী পরিচালক (AD)-এর কক্ষে দেখা করুন। তিনি ফাইলে কোনো আপত্তি না থাকলে তৎক্ষণাৎ তার কম্পিউটার থেকে অ্যাপ্রুভ করে দেবেন।

প্রশ্ন ৩: পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য কি কোনো সরকারি ফি বা টাকা দিতে হয়?

উত্তর: একদমই না। পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ একটি সরকারি আইনি প্রক্রিয়া এবং এর জন্য কোনো সরকারি ফি নির্ধারিত নেই। আপনি পাসপোর্টের জন্য যে চালানের টাকা দিয়েছেন, সেখানেই সকল প্রশাসনিক খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোনো তদন্ত কর্মকর্তা যদি অযৌক্তিক দাবি করেন, তবে আপনি বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার (SP) বা বিশেষ শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করতে পারেন।

প্রশ্ন ৪: বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা আলাদা হলে দুই জায়গায় কি পুলিশ তদন্ত হবে?

উত্তর: সাধারণ নিয়মে পুলিশ ভেরিফিকেশন মূলত আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানায় পরিচালিত হয়, কারণ নাগরিকের স্থায়ী নাগরিকত্ব ও শেকড়ের সত্যতা যাচাই করাই প্রধান লক্ষ্য। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বা মেট্রোপলিটন এলাকায় বসবাসকারী চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বর্তমান ঠিকানার স্থানীয় থানা থেকেও একটি সহায়ক ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নেওয়া হতে পারে।

প্রশ্ন ৫: পুলিশ যদি কোনো কারণে নেগেটিভ রিপোর্ট (Adverse Report) দেয়, তবে প্রতিকার কী?

উত্তর: পুলিশ নেগেটিভ রিপোর্ট দিলে পাসপোর্ট অফিস থেকে আবেদনকারীকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয় অথবা ফাইলটি স্থগিত রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারী জেলা বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার (SP, DSB) বরাবর রি-ভেরিফিকেশন বা পুনঃতদন্তের জন্য আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন করতে পারেন। উপযুক্ত দালিলিক প্রমাণসহ পুনঃতদন্তে ইতিবাচক রিপোর্ট আসলে পাসপোর্ট অফিস থেকে পুনরায় ফাইল প্রক্রিয়া শুরু হয়।

প্রশ্ন ৬: আমার পাসপোর্টের ডেলিভারি স্লিপ হারিয়ে গেলে আমি কীভাবে পাসপোর্ট সংগ্রহ করব?

উত্তর: ডেলিভারি স্লিপ হারিয়ে গেলে অবিলম্বে আপনার নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। এরপর জিডির মূল কপি, অনলাইন আবেদন ফর্মের কপি এবং আপনার মূল জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালকের বরাবর একটি লিখিত আবেদন দাখিল করলে তিনি যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পাসপোর্ট হস্তান্তরের অনুমতি প্রদান করবেন।


লেখক ও গবেষক: বায়েজীদ জামান

ডিজিটাল নাগরিক সেবা ও পাসপোর্ট আইন বিশেষজ্ঞ। korkho.blogspot.com-এর মূল লক্ষ্য ও আদর্শ হলো বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য জটিল সরকারি, প্রশাসনিক ও ডিজিটাল সেবাসমূহকে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সহায়তা ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, সহজবোধ্য ও কার্যকরভাবে ঘরে বসে পাওয়ার নির্ভরযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র ও আইনি দায়মুক্তি: এই নির্দেশিকা বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (DIP), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পাসপোর্ট নীতিমালা, বাংলাদেশ পুলিশ বিশেষ শাখা (SB) এবং epassport.gov.bd-এর অফিশিয়াল তথ্যাবলীর আলোকে প্রণীত। সরকারি ফি ও নিয়মাবলী যেকোনো সময় সরকার কর্তৃক সংশোধিত হতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post