এইচএসসি জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের (প্রাণিবিজ্ঞান) সবচেয়ে মৌলিক এবং বোর্ড পরীক্ষা ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১ম অধ্যায় 'প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস' (Animal Diversity and Classification)। সৃজনশীল প্রশ্নের (খ) অংশে ২ নম্বরের অনুধাবনমূলক প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই মূল বৈজ্ঞানিক যুক্তি স্পষ্ট না করে অহেতুক বর্ণনা লেখে, যার ফলে পূর্ণ নম্বর হাতছাড়া হয়। বিগত কয়েক বছরের বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কর্ডাটা ও ভার্টিব্রাটার সম্পর্ক, সিলোমের শ্রেণিবিভাগ এবং প্রতিসাম্যতার মতো ৪-৫টি নির্দিষ্ট টপিক থেকেই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে প্রশ্ন আসে। নিচে শতভাগ নম্বর পাওয়ার মতো সাজানো উত্তর তুলে ধরা হলো:
১. 'সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডেট, কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়'—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কর্ডাটা (Chordata) পর্বের প্রধান অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো জীবনের যেকোনো দশায় (ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন) পৃষ্ঠ-মধ্যরেখা বরাবর দণ্ডাকার, স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড (Notochord) উপস্থিত থাকে।
কর্ডাটা পর্বটি তিনটি উপপর্বে বিভক্ত: ইউরোকর্ডাটা, সেফালোকর্ডাটা এবং ভার্টিব্রাটা (Vertebrata)। এর মধ্যে প্রথম দুটি উপপর্বের প্রাণীদের ক্ষেত্রে নটোকর্ড কখনোই অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হয় না। কিন্তু ভার্টিব্রাটা উপপর্বের প্রাণীদের ক্ষেত্রে ভ্রূণীয় নটোকর্ডটি পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় সুস্পষ্ট কশেরুকাযুক্ত শক্ত মেরুদণ্ড (Vertebral Column) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
যেহেতু সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীই মূলত কর্ডাটা পর্বের অন্তর্ভুক্ত, তাই সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডেট। কিন্তু কর্ডাটার বাকি উপপর্বগুলোর নটোকর্ড মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত না হওয়ায় সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী হতে পারে না।
২. সিলোম (Coelom) বলতে কী বোঝায়? সিউডোসিলোমেটের উদাহরণ দাও।
উত্তর: ত্রিস্তরী প্রাণীদের ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের সময় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট এবং মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম (Peritoneum) পর্দা দ্বারা আবৃত দেহগহ্বরকে সিলোম (Coelom) বলে।
মেসোডার্মাল পর্দার উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রাণীদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেসব প্রাণীর দেহপ্রাচীর ও পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী গহ্বরটি পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে না বরং মেসোডার্মাল থলি দ্বারা খণ্ডিতভাবে বেষ্টিত থাকে, তাদের সিউডোসিলোমেট বা অপ্রকৃত সিলোমযুক্ত প্রাণী বলা হয়।
উদাহরণ: নেমাটোডা (Nematoda) পর্বের প্রাণী গোলকৃমি (Ascaris lumbricoides)।
৩. নিডারিয়া (Cnidaria) পর্বের প্রাণীদের কেন ডিপ্লোব্লাস্টিক (দ্বিস্তরী) বলা হয়?
উত্তর: ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের সময় যেসব প্রাণীর গ্যাস্ট্রুলা পর্যায়ে কোষগুলো দুটি নির্দিষ্ট ভ্রূণীয় স্তরে বিন্যস্ত থাকে, তাদের দ্বিস্তরী বা ডিপ্লোব্লাস্টিক প্রাণী বলে।
নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের (যেমন: Hydra) ক্ষেত্রে বাইরে একটোডার্ম থেকে উৎপন্ন এপিডার্মিস এবং ভেতরে এন্ডোডার্ম থেকে উৎপন্ন গ্যাস্ট্রোডার্মিস স্তর থাকে। এই দুটি কোষীয় স্তরের মাঝখানে অকোষীয়, জেলির মতো আঠালো মেসোগ্লিয়া (Mesoglea) স্তর বিদ্যমান থাকে। যেহেতু এদের ভ্রূণে কোনো মেসোডার্ম স্তর থাকে না এবং দেহ মাত্র দুটি প্রাথমিক ভ্রূণস্তর থেকে গঠিত হয়, তাই এদের দ্বিস্তরী প্রাণী বলা হয়।
৪. পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পাওয়ার বাস্তব টিপস
বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বৈজ্ঞানিক নাম লেখার সময় নিচের আন্ডারলাইন (Underline) করতে ভুলে যায়। মনে রাখবেন, খাতায় হাতে বৈজ্ঞানিক নাম লিখলে গণ ও প্রজাতির নামের নিচে আলাদা দাগ টানতে হবে। অনুধাবনমূলক প্রশ্নের সাথে ছোট্ট একটি ক্রস-সেকশন বা সিলোমের ডায়াগ্রাম এঁকে দিলে পরীক্ষক মুগ্ধ হয়ে পূর্ণ ২ নম্বর প্রদান করেন।
প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: মেটামেরিজম (Metamerism) বা খণ্ডকায়ন কী?
উত্তর: কোনো প্রাণীর দেহের অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর কতগুলো অঙ্গের যদি একই ধরনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে সেই অবস্থাকে খণ্ডকায়ন বলে (যেমন: কেঁচোর অ্যানিলিডা পর্বের প্রকৃত খণ্ডকায়ন)।
প্রশ্ন: অরীয় প্রতিসাম্যতা (Radial Symmetry) কোন পর্বের প্রাণীতে দেখা যায়?
উত্তর: কোনো প্রাণীর দেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর যেকোনো উল্লম্ব তলে দুইয়ের বেশি সদৃশ অংশে ভাগ করা গেলে তাকে অরীয় প্রতিসাম্যতা বলে (যেমন: নিডারিয়া পর্বের হাইড্রা ও জেলিফিশ)।
Post a Comment